ঢাকা: চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নওপত্র ফাঁসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের পর এবার গণিত পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গণিতের বহুনির্বাচনী ‘খ’ সেট ‘চাঁপা’ ফেসবুকে চলে আসে। এরপর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মেলালে হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এরপর সকাল ৮ টা ৫৯ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের ‘SSC ফ্রি প্রশ্নের দুকান’ নামের একটি গ্রুপে গণিতের বহুনির্বচনি অভীক্ষার ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়। এর সঙ্গে ছিল হাতে লেখা উত্তরপত্র। ফারহান আদনান নামের একটি আইডি থেকে এই প্রশ্নপত্রটি গ্রুপে দেওয়া হয়। এসময় উত্তরপত্রও দেওয়া হয় ওই আইডি থেকে।
প্রশ্নফাঁস এদেশে নতুন কিছু নয়। এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি, জেডিসি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়ে আসছে গত কয়েক বছর ধরে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরই ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
বৃহস্পতিবার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন দিয়ে মুরু হয় ফাঁসের ধারা। বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনি অভীক্ষার ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষার প্রশ্ন ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই তা ফেসবুকে পাওয়া যায়।
এরপর বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ‘খ’ সেটের প্রশ্নটিও ফেসবুকে পাওয়া যায় সকাল ৯টার একটু পর। প্রশ্নটি এরপর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়াতে থাকে।
পরের দুই পরীক্ষা ইংরেজি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নও পাওয়া যায় ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে।
পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। যদিও প্রথম তিন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়। এরপর প্রশ্নফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। আর এবার সে পদক্ষেপও ব্যর্থ হলো।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজশাহী থেকে এক নারী ও শেরপুর থেকে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ফাঁসের বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। আজকে যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তা ফেক ছিল।
