আল-আরাফা ব্যাংকের ম্যানেজারসহ ৪ কর্মকর্তার জামিন

chittagong courtচট্টগ্রাম: ঋণ গ্রহীতার দায়ের করা চেক জালিয়াতি মামলায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার চার কর্মকর্তার জামিন মঞ্জুর করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। রোববার মহানগর হাকিম মো. হারুন-অর-রশিদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার আকতার কামাল, অপারেশন ম্যানেজার নাহিদ হোসেন, বিনিয়োগ শাখার প্রধান ইমতিয়াজ আলম ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার আক্তার হোসেন।

বাদীর আইনজীবী আবছার উর রশীদ বলেন, ব্যাংকের চ’ড়ান্ত তাগাদাপত্র অনুযায়ী বাদীর কাছে ঋণ বাবদ ৩৪ লাখ টাকা পাওনা আছে ব্যাংক। কিন্তু আসামিরা পরষ্পর যোগসাজশে বাদীর জামানতকৃত চেক জালিয়াতি করে বাদীর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করেন। ফলে বাদি তাদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের করে। রোববার আসামিরা আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে আদালত আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত আপোষের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেছেন।

এরআগে একই মামলায় আরেক অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আহমেদ আদালতে আত্মসমপর্ণ করে জামিন নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ওই শাখার ঋণ গ্রহীতা নগরীর এনায়েত বাজারস্থ ফেমাস সেনিটারীর মালিক ব্যবসায়ী মীর মঈনুল হাসান চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জের দুইটি জায়গা মর্টগেজ দিয়ে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩৫ লাখ টাকার একটি ঋণ নেন তিনি। ঋণ মঞ্জুরীর সময় বিবাদীগণ তার কাছ থেকে স্বাক্ষরসহ ৮টি অলিখিত চেকও গ্রহণ করেন। বাদী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ঋণ পরিশোধের চুড়ান্ত তাগাদাপত্রে দিয়ে বাদীর নিকট সুদাসলসহ ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দাবী করেন। তাগাদা পত্র পাওয়ার পর ২ লাখ ১৮ হাজার টাকাও পরিশোধ করেন তিনি।

এরপর আসামীরা বাদীর স্বাক্ষরযুক্ত অলিখিত ৮টি চেকের মধ্যে ২টি চেক ব্যবহার করে প্রত্যেক চেকে ৩৫ লাখ টাকা লিখে বাদীর বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিসঅনার মামলা দায়ের করেন। একই সাথে ৭৭ লক্ষ ৩২ হাজার ১৩২ টাকা ৬০ পয়সা দাবি করে অর্থ ঋণ আদালতে বাদীর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতি, প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে বাদীর স্বাক্ষরযুক্ত অলিখিত চেক ব্যবহার করে অর্থ ঋণ আদালতে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগে বাদী ব্যবসায়ী মঈনুল ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে পিবিআই আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। ওই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ম্যানেজারসহ ৫জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে আদালত।