‘গানম্যান’ ছাড়া চলেন এমপি!

আবু আজাদ : ২০১৬ সালের শেষের দিকে সংসদ সদস্য লিটন খুন হওয়ার পর অনেক জেলায় এমপিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে জামায়াত ও জঙ্গি অধ্যুষিত এলাকার সংসদীয় আসনের এমপিরাই বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে সে সময় তথ্য প্রকাশ করে আইনশৃংখলা বাহিনী।

কিন্তু জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনের এমপি হয়েও নিজের নিরাপত্তায় কোনো গানম্যান রাখেননি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, জনসংযোগ, জনকোলাহল- সবই করেন গানম্যান ছাড়া। কেবল তাই নয়, কখনো একটি অস্ত্রের লাইসেন্স নেয়ারও গরজ মনে করেননি তিনি। অথচ এমপি তো বটেই, কোনো কোনো এমপি পরিবারের প্রায়সব সদস্যের আছে অস্ত্রের লাইসেন্স।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এই দেশকে স্বাধীন করতে একদিন নিজে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম। আজ সেই স্বাধীন দেশে আমার নিরাপত্তার জন্য কেন অন্যজনকে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? তাই সাড়ম্বরে গানম্যান-সুবিধা বর্জন করেছি।

এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মৃত্যুকে মেনে নিয়ে সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিলাম। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে জীবিত ফিরব কিনা জানা ছিল না। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ফিরে এসেছি। আমি মনে করি এটা আমার এক্সটেনশন লাইফ। এই এক্সটেনশন লাইফে অস্ত্র দিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে কী হবে।’
সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমি মনে করি তারাই আমার ‘গানম্যান’, তারাই আমার রক্ষাকবচ।’ বলেন এমপি নজরুল।

অস্ত্রের লাইসেন্স বর্জন করা প্রসঙ্গে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, লাইসেন্সধারী অস্ত্র রাখার সুযোগও আমি নিইনি। আমি বৈধ-অবৈধ সবরকম অস্ত্রের বিপক্ষে। আমি অস্ত্রের বিরুদ্ধে এলাকায় জেহাদ ঘোষণা করেছি। এমপি নির্বাচিত হয়ে ঘোষণা দিই- কোনো ধরনের সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজি আমার এলাকায় চলবে না।’

এমপি নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় কর্মীদের সবসময় বলার চেষ্টা করেছি- মানুষের পাশে দাঁড়াও, তাদের ভালোবাসা অর্জন করো। দেখবে তারাই ভালোবাসার অস্ত্র দিয়ে তোমাকে পাহারা দেবে, যা বুলেটের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী’

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্যরা বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানকালে এমপিরা গানম্যান ব্যাবহার করতে পারবেন বলে নির্দেশনা জারি করে।

এ বিষয়ে কৌতুহল মেটানোর জন্য একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীর কাছে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠান।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ক’জন এমপি বা কারা কারা গানম্যান ব্যাবহার করেন সে তথ্য এ মুহুর্তে আমার কাছে নেই। তবে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি নিজ এলাকায় গানম্যান ব্যাবহার না করে চলতে পারেন, তাহলে তা ওই জনপ্রতিনিধিরই সম্মান বৃদ্ধি করবে।’

একুশে/এএ/এটি