বিট পুলিশিং: অর্ধ লাখ মানুষের জন্য একজন বিট অফিসার

CMPচট্টগ্রাম: নগরীতে বসবাস করছেন প্রায় ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ মানুষ। এসব মানুষকে কার্যকর সেবা দিতে নগরীকে ১৪৫টি বিটে ভাগ করেছে পুলিশ। প্রতিটি থানা এলাকায় রয়েছে ৫ থেকে ১৫টি বিট। প্রতিটি বিটের দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার একজন বিট অফিসার। সে হিসেবে গড়ে ৪৭ হাজার ৪৫৩ জন মানুষের দায়িত্বে রয়েছেন একজন বিট অফিসার। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনগণের কাছে কার্যকর সেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গত ১৫ মে চালু করা হয় ‘বিট পুলিশি’। প্রতিটি বিটে একজন এসআইকে বিট অফিসার করা হয়েছে। তার সঙ্গে একজন এএসআই ও দুই থেকে তিনজন করে কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন।

গত ১৫ মে বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধনকালে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছিলেন, ব্রিটিশ আমলে পুলিশের টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহর এলাকাকে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা হতো, যাকে বলা হতো বিট পুলিশিং। বিট পুলিশিং কার্যক্রমের ফলে নগরীর প্রতিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বসবাসকারীদের কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি অপরাধ প্রকৃতি ও অপরাধী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বিট অফিসাররা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংগঠনের নেতা ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।

তবে দুই মাস আগে দেওয়া চট্টগ্রামের পুলিশপ্রধানের এ বক্তব্যের সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার অনেকাংশের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ এলাকায় সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারকে স্থানীয় মানুষজন চিনছেন না। বিট অফিসারকে স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ও বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের বরাদ্দকৃত মোবাইল নম্বরটি স্থানীয়দের জানানোর জন্য পুলিশের উদ্যোগও চোখে পড়েনি। শুধু তাই নয়; বিট অফিসারদের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে কোনো কোনো অফিসারের সাড়াও মিলছে না বলে জানা গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিট অফিসারদের থানার অন্য কাজগুলোও করতে হচ্ছে। শুধু একটি বিট নিয়ে পড়ে থাকার ‘সুযোগ’ নেই। এক কথায় পুলিশের জনবল সংকটের কারণে এ উদ্যোগের সুফল পেতে দেরি হচ্ছে। জানা গেছে, ৩৫নং বিটের আওতাভুক্ত এলাকায় পড়েছে বাকলিয়া থানার মাস্টারপোল এলাকার সুবর্ণা আবাসিক এলাকা। এ এলাকার বিট অফিসারের দায়িত্বে আছেন এসআই ফারুকুল ইসলাম। তবে বিট অফিসার ফারুকুলকে সুবর্ণা আবাসিকের অনেক বাসিন্দা চেনেন না।

বাকলিয়া থানা এলাকার সুবর্ণা আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন বলেন, নগরীতে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আবাসিক এলাকার মধ্যে সর্বপ্রথম আমার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছি। পুলিশের যে কোনো উদ্যোগে আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকি। কিন্তু বিট পুলিশিং নিয়ে আমার এলাকায় এখনো কোনো কিছু হয়নি। এমনকি বিট অফিসার কে তাও আমি জানি না।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানার জন্য ৩৫নং বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ও বাকলিয়া থানার এসআই ফারুকুল ইসলামের নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে সোমবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত চারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে থানা থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন।

এরপর এ বিষয়ে এসআই ফারুকুল ইসলাম বলেন, থানার মধ্যে অনেক কাজ। বিট এলাকার বাইরে গিয়ে মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ভিকটিম সাপোর্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। এর ফলে বিট এলাকায় সার্বক্ষণিক সময় দিতে পারি না। গত রোববার বৌবাজার ও মাস্টারপোল এলাকায় বিট পুলিশিং নিয়ে আমি প্রচারণা চালিয়েছি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রমটি সফলভাবে কার্যকর করা গেলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধসহ অপরাধ দমনে দৃশ্যমান সুফল আসবে। এ ছাড়া এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধ ঘটলে জড়িতদের শনাক্ত করা সহজ হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, প্রতিটি বিটে গড়ে ৫০ হাজারের মতো মানুষ পড়েছে। বিটের বাইরে গিয়েও অফিসাররা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। সময়ের ব্যবধানে বিট অফিসারের সঙ্গে এলাকার সব মানুষের সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। আপাতত বিট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। জনবল সংকট রয়েছে। তবে জনসংখ্যা, অপরাধের মাত্রা ও ধরন বিবেচনায় নিয়ে থানায় জনবল বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।