এজি চার্চ স্কুলে বৈদ্যুতিক পাখা পড়ে ৪ ছাত্র আহত, কর্তৃপক্ষ বলছে ঘটতে পারতো ‘বড়’ কিছু!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর জামালখানে ‘এজি চার্চ’ নামে একটি বিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক পাখা পড়ে চার ছাত্র আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো- তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তালাল আজাদ অর্ঘ্য (১০), স্বপ্নীল (৯), আদনান (১০) ও ইমতিয়াজ (৯)।

এদের মধ্যে তালাল আজাদ অর্ঘ্যকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অর্ঘ্য ‘একুশে পত্রিকা’র সম্পাদক আজাদ তালুকদারের সন্তান। কাঁধের জখম ও ব্যথার জন্য সোমবার বিকেলে তার এক্সরে করানো হয়েছে। ঘাড়ে কেটে যাওয়ায় আদনানকে তার পরিবার নিজেদের দায়িত্বে নিয়েছে। এছাড়া স্বপ্নীল হাতে ও ইমতিয়াজ মাথায় ব্যথা পেয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাত-সমাবেশ (অ্যাসেমব্লি) শেষে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাসে প্রবেশ করে এর পরপরই একটি বৈদ্যুতিক পাখা সিলিং থেকে খসে পড়ে। এতে চার ছাত্র আহত হয়।

এদিকে ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ি করছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, স্কুলের বৈদ্যুতিক পাখাগুলো ১০-১৫ বছরের পুরোনো। তাই এ দুর্ঘটনা। এমন দুর্ঘটনার পরেও চরম অবহেলা দেখিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর আহত ছাত্রদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা। পরে অভিভাবকরা তাদের নিজ দায়িত্বে আহত ছাত্রদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এজি চার্চ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জেসিনতা অধিকারী বলেন, “সিলিং থেকে ফ্যানটি কীভাবে খুলে গেল আমরা তা ভাবছি। অল্পতে সেরেছে, আরো ‘বড়’ কিছু ঘটতে পারতো!”

প্রধান শিক্ষিকার এমন বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

তালাল আজাদ অর্ঘ্য’র বাবা আজাদ তালুকদার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘উনি কী তাহলে আরো বড় কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন! একজন শিক্ষিকা কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? এতবড় দুর্ঘটনার পরেও আহতদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি!

একুশে/এএ