পটিয়ায় সমাবেশ, নগরে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিবেন এমন জনসভাগুলো সাধারণত জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রেই আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ওই হিসেবে আগামী ২১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়ায় অনুষ্ঠেয় জনসভাটিও হওয়ার কথা ছিল নগরীতে। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটেছে। এই নিয়ে নগরীতে দলটির কর্মীদের মধ্যে আছে হতাশা।

প্রসঙ্গত, এ জনসভার স্থান ঘোষণার পর থেকেই উঠে নানা প্রশ্ন। শহরে মাঠ সংকটের জন্য সমাবেশটি পটিয়ায় বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে এমন বক্তব্যও ছিল আলোচনা–সমালোচনায়। তবে এখন দাবি করা হচ্ছে, ‘নগরে যারা রাজনীতি করেন তাদের ব্যর্থতার কারণেই পটিয়ায় এই সমাবেশটি আয়োজন করা হচ্ছে।’

এ দাবি ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ এম এ লতিফের। অবশ্য এই দাবি মানতে নারাজ নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আর কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সমাবেশ যেখানেই হোক, সেটাকে সফল করাই সংগঠনের দায়িত্ব।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আউটার স্টেডিয়ামে নির্মণাধীন সুইমিং পুল নিয়ে আ জ ম নাছিরের সঙ্গে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীরর অনুসারী আওয়ামী লীগের একটি অংশের বিরোধ ছিল। এখন মাঠ সংকটের কারণে সভা না হওয়ার সুযোগে আ জ ম নাছিরকে আরো কোনঠাসায় ফেলারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকলে সমাবেশটি চট্টগ্রামেই হতো বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বন্দর আসনের সংসদ এম এ লতিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শহরের বাইরে জনসভা হওয়ার জন্য শহরের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত এটা তাদের ‘ব্যর্থতা’।

তিনি আরো বলেন, ‘সমাবেশ যদি কক্সবাজারে হতো তাহলে ভিন্ন কথা। শহর থেকে পটিয়ার দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এই মহাসমাবেশ শহরে হতে পারত। এটা আমরা যারা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, আমাদের ব্যর্থতা। আমি খুব আহত হয়েছি। আজ মহিউদ্দিন ভাই বেঁচে থাকলে হয়ত তিনি নেত্রীকে বোঝাতেন। মহাসমাবেশ চট্টগ্রাম শহরেই করতেন। মহিউদ্দিন ভাইয়ের অনুপস্থিতির জন্যই আমরা সাফার করছি।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ–সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা চট্টগ্রাম শহরে না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হতাশা আছে। মানুষের মধ্যে মনমরা ভাব এসেছে। আবার পটিয়ায় এই সভা হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এক ধরনের আনন্দেরও জায়গা আছে। কারণ, আমাদের নেত্রী শুধু শহরে নয়, গ্রামে গিয়েও সভা করেন।’

এত কিছুর পরেও জনসভাকে ঘিরে নগরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা এবং প্রস্তুতিও। প্রায় প্রতিদিনই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। গতকাল রাতেও বৈঠক হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে। মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকগণ এ বৈঠক করেন। এছাড়া বিকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও চলছে শহর পরিষ্কার, ফুটপাতে রং করা, ভাঙা সড়ক সংস্কার করার কাজ।

একুশে/এএ