ওমর ফারুক হিমেল, দক্ষিণ কোরিয়া : দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও কিয়ংহি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে ইয়ংইনে অবস্থিত কিয়ংহি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে গণহত্যাদিবস ২০১৮ পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ছাড়াও কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসহ বেশকিছু বিদেশী অতিথি অংশগ্রহণ করেন।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
সূচনা বক্তব্যে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) দিবসটির প্রেক্ষাপট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর স্বীকৃতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বাণী পড়ে শোনান।
এরপর ২৫ শে মার্চের কালোরাত্রের উপর “Tale of the Darkest Night” শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সকলকে ভীষণভাবে নাড়া দেয় ।
গণহত্যা দিবসের পটভূমি ও তাৎপর্য্যের উপর আলোচনাপর্বে অংশ নিয়ে উপস্থিত অতিথিরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারানো বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ।
কিয়ংহি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ং-জে মুন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এমন ভয়াবহ গণহত্যা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না । অনুষ্ঠানে এসে তিনি বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে ধারণা পেলেন বলে জানান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চুং স্যন হং তার বক্তব্যে বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার ইতিহাসের সাদৃশ্যের দিকটি তুলে ধরেন ।
রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের যেসব সংবাদ বিশ্ব মতামতকে প্রভাবিত করেছিল, সে বিষয়গুলি তুলে ধরেন । তিনি বলেন, গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানের মিথ্যাচার অব্যাহত রয়েছে। তা প্রতিহত করা এবং সেই সাথে ২৫শে মার্চসহ ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য এই স্বীকৃতি প্রয়োজন । এই লক্ষ্যে তিনি উপস্থিত সকলকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া গণহত্যা দিবস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে একাত্তরের গণহত্যার কিছু স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং গণহত্যার উপর Bangladesh Genocide Revisited শীর্ষক পুস্তিকাটির কপি উপস্থিত অতিথিদের মাঝে বিতরণ করা হয় । আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়।
