চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন সমবায় সমিতি মালিক সরকারী কর্মচারী!

Young Star copyচট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর খরনদ্বীপে ‘মুন্সীপাড়া ইয়াং ষ্টার সমবায় সমিতি’ নামের একটি অনুমোদন বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ দান সংস্থা দুই সরকারী কর্মচারী পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার খরনদ্বীপের বাসিন্দা ও পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী সালাউদ্দিন আহমেদ রুবেল এবং তার মামাত ভাই বহদ্দারহাট বিআরডিবি অফিসের অফিসের কর্মচারী আবদুল্লাহ আল বাকের।

অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মচারী তাদের সরকারী চাকুরীর সুবাদে ঘুষ-দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমান টাকা চড়াসুদে নিজ এলাকার স্থানীয়দের মাঝে ঋণ বিতরণ করে লগ্নি করেন অনিবন্ধিত ও অনুমোদন বিহীন এই সমিতির মাধ্যমে। বোয়ালখালীর রুপালী ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকে রুবেল ও বাকেরের নামে এফডিআর ও ব্যক্তিগত হিসাবে ‘মুন্সীপাড়া ইয়াং ষ্টার সমবায় সমিতি’র টাকা লেনদেন করা হয়।

সমবায় সমিতি আইনের ৯ ধারায় নিবন্ধন ব্যতিত সমিতি পরিচালনা ৭ বৎসরের কারাদন্ড বা অন্যূন্য ১০(দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় একটি অপরাধ। এছাড়াও একই ধারায় নিবন্ধন ব্যতিত সমবায় বা ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরাব শব্দ ব্যবহার করা, সাইন বোর্ড, বিল বোর্ড বা প্রচারপত্রে এধরনের শব্দ ব্যবহার করা এবং আইনের ২৩খ ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীত সমবায় সমিতি ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনাও একই ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও সরকারী কর্মচারী আইন মতে সরকারী চাকুরিজীবী কোন ধরণের সংস্থা, সংগঠন, কোম্পানী কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের কোন পদে আসীন থাকতে না পারার বিধিনিষেধ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ‘মুন্সীপাড়া ইয়াং ষ্টার সমবায় সমিতি’ নামের এই ঋন দান সমিতি পরিচালনা করে আসছেন রুবেল ও বাকের।

‘মুন্সীপাড়া ইয়াং ষ্টার সমবায় সমিতি’ পরিচালক বলে স্বীকার করে সালাউদ্দিন আহমেদ রুবেল বলেন, ‘আমাদের সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক দুই থেকে আড়াইশ টাকা করে জমা নেওয়া হয়। তবে কোন ধরণের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।’

সরকারী কর্মচারী হয়ে অনুমোদন বিহীন সমবায় সমিতির নামে ‘সীল ও পাশ বই ব্যবহার’ করে এভাবে সঞ্চয় নেওয়া নিয়মের মধ্যে পড়ে কিনা জানতে চাইলে নীরব থাকেন তিনি।

এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিআরডিবি কর্মচারী আবদুল্লা আল বাকেরের মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ না পাওয়া কথা বলা সম্ভব হয় নি।

এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা সমবায় অফিসার মাহবুবুর রহমান ভূঞা বলেন, ‘অনিবন্ধিত সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে ঋণ দান ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের পরিপন্থি। সরকারী কর্মচারী হোক অথবা যেই হোক এধরণের অভিযোগ পেলে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’