শুক্রবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজীব

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১০, ২০১৮, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

রাতে (সোমবার দিবাগত রাতে) আমাদের রাজীবের কী হলো আল্লায় জানে। সন্ধ্যায় তার সঙ্গে কথা বলে বাসায় গিয়েছিলাম। গভীর রাতে শুনি তার অবস্থা ভালো না। একথা শুনে নিজের কাছে কেমন লেগেছে তা কাউকে বুঝাতে পারব না। মনে হয়েছে কেউ বুঝি কলিজাটা চেপে ধরেছে। যে রাজীব চোখ মেলেছে, একটু একটু কথা বলেছে, যাকে রাত পোহালেই আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে নেয়ার কথা ছিল, সেই এখন লাইফ সাপোর্টে। এটা কেমনে মেনে নিই বলেন…?’

বুকভরা আর্তনাদ আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এভাবেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজীবের মেঝ খালা হ্যাপী আক্তার। তার এমন শোকাবহ শব্দগুলো আইসিইউর সামনে অবস্থানরত অন্য স্বজনদের মুহূর্তেই যেন শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। সৃষ্টি করে হৃদয়ের মাঝে নীরব রক্তক্ষরণ।

তিনি বলেন, ‘রাজীবের ব্যাপারে গতকাল (সোমবার) দুপুরের দিকে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে আমরা সবাই গিয়ে কথা বলি। সে আগের চেয়ে সুস্থ আছে বলে তিনি আমাদের জানান। এমনকি আজ (মঙ্গলবার) সকালে তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তরের কথাও বলেছিলেন পরিচালক। অথচ সকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেল। এটা কেমনে মেনে নেব। এটা আমরা কেউ আশা করিনি।’

এ সময় শোকাবহ পরিবেশে রাজীবের বড় খালা জাহানারা ওড়না দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে এ প্রতিবেদককে বলেন, গতরাতে আমরা তার অবস্থা অনেকটা ভালোর দিকে দেখেছিলাম। আজ (মঙ্গলবার) সকালে তাকে ওয়ার্ডে নেয়া হবে এ আশায় বাসায় যাই। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত পৈানে ৪টার দিকে তার অবস্থা খারাপ হলে সকাল ৮টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয় চিকিৎসকরা।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজীবের এমন অবস্থা নিয়ে এখন তারা সবাই শঙ্কিত বলে জানান তিনি। এ জন্য দেশবাসীর কাছে রাজীবের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন জাহানারা বেগম।

রাজীবের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘তার (রাজীব) অবস্থা এখন সঙ্কটাপন্ন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বাকিটা আল্লাহর ওপর নির্ভর করছে।’

তিনি বলেন, মেডিকেলের ভাষায় স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের গ্লাসগো কোমা স্কেল অর্থাৎ সজ্ঞানতার অবস্থা (জিসিএস) ১৪-১৫ থাকে। কিন্তু এটি যখন আটের নিচে নেমে আসে তখন আমরা রোগীর অবস্থাকে ক্রিটিক্যাল বলে থাকি। সেক্ষেত্রে রাজীবের জিসিএস অবস্থান এখন তিনের অধিক কিন্তু আটের নিচে। যখন জিসিএস তিনের নিচে চলে যায় তখন মানুষটি আর বেঁচে থাকে না। এখন সে অনুযায়ী রাজীবের অবস্থা বলা মুশকিল। আল্লাহ পাকের রহমত ছাড়া আর কিছু বলার থাকে না এমতাবস্থায়।