নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। একইসাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষাও বর্জন করেছে।
বুধবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ১১ টা) চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর স্টেশনে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না। ক্লাস বর্জন করায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম। বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করেছে বলেও জানা যায়।
এদিকে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আন্দোলনকারীরা নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকা অবরোধ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে রাস্তার এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আটকা পরেছে শত শত গাড়ি। ছাত্র-ছাত্রীরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সরকারি কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ষোলশহর রেল স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থী জড়ো হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
ষোলশহর রেল স্টেশনের মাস্টার সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সাড়ে আটটার শাটল ট্রেন যাওয়ার পর সেটি অার ফিরে অাসেনি। অান্দোলনকারীরা অাটকে দিয়েছে। তাই পৌনে ১০টা ও সাড়ে ১০টার শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে ছেড়ে যেতে পারছে না।’
ক্লাস বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চবি শাখার সমন্বয়ক মো. আরজু একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী চবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কোনো অনুষদের কোনো বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না। ঢাবির সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীদের উপর হামরার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মানজারুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, কোটি তারুণ্যের প্রাণের দাবিকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বৈষম্যের অবসান না হলে, কেন্দ্রের নির্দেশ না পেলে আমরা আর ক্লাসে ফিরে যাব না। যেতে পারি না।
এদিকে সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে এবং শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা পৌনে ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছে।
একুশে/এএ
