ঢাকা : অাওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, `মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি চাকরির কোটাপদ্ধতি বাতিলের ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ’মাদার অব অ্যাডুকেশন’ অাখ্যা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে ছাত্ররা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়েছে। সবাই খুশি হলেও বিএনপি খুশি হতে পারেনি তারা এই আন্দোলনকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল। তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতির পরাজয় হয়েছে বিধায় তাদের এতো গাত্রদাহ।’
শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে ধানমন্ডির অাওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় এক সংবাদ সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও তারেক রহমানের টেলিফোনে নির্দেশনা একই সূত্রে গাঁথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে এই ধরনের হামলা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেও এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ভিসির বাসভবনে হয়নি। এগুলো যারা করেছে তারা দুস্কৃতিকারী। এসবের সাথে তারেক রহমানের টেলিফোন নির্দেশনা সংযুক্ত।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে যারা এই অান্দোলনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামাতগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। এজন্যই বিএনপি এই ঘোষণায় খুশি হতে পারছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে রিজভী অাহমেদ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণার মধ্যে কিন্তু খোঁজার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিএনপি নেতা রিজভী অাহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে পার্থক্য অাছে। অামাদের গর্বিত সেনাবাহিনী হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ। অথচ বিএনপি আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীকে দিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাজ করাতে চায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও আমাদের সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এবং ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য ব্যাবহার করেছিলেন। বিএনপিও সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশের কাজ করাতে চায় এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চায় বিধায় তারা এ সমস্ত দাবি জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি পরগাছা দলে রূপান্তরিত হয়েছে। নিজেরা কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে না। তারা অন্যদের অান্দোলনে খড়খুটোর মতো আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করে। তারা ইতিপূর্বে তথাকথিত তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির অান্দোলনে অাশ্রয় নিয়ে নিজেদের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। সবশেষে শিক্ষার্থীদের অান্দোলনে আশ্রয় নিয়ে তাদের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদিকা ফরিদুন্নাহার লাইলি, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অামিনুল ইসলাম, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদিকা শামসুন্নাহার চাপা, কার্যকরি সদস্য অানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি/একুশে
