রনির হিংস্রতা : কানে শুনছে না রাশেদ মিয়া

চট্টগ্রাম : ‘এতগুলো টাকা আমি কেমনে দেব বলার সাথে সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল আজিম রনি অফিসে থাকা হকিস্টিক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বারি মারলে আমি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি আমার বামকানে লাগে। মারাত্মকভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়ে আমার বামকানের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।’

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে এভাবেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন রাশেদ মিয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরের পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ দুই জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত সাত-আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ মিয়া।

অভিযোগের শুরুতে রাশেদ জানান, গত প্রায় আট বছর যাবত তিনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের জিইসি মোড় শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি ও তার অনুসারিরা তার প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতো এবং চাঁদা নিতো।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিসে এসে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় রাশেদ এতগুলো টাকা কোথা থেকে দেবে জানতে চাইলে, নুরুল আজিম রনি তাকে মরধর করে।

এদিকে, ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিস কক্ষে সংঘটিত এই ঘটনার সিসিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে মালিক ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙ্গুল তুলে শাসাতে ও টেবিল চাপড়াচ্ছেন নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। এর একপর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে বারবার রাশেদের গালে থাপ্পড় চালাতে থাকেন রনি। এর মধ্যে মাঝে মাঝে চলতে থাকে তার শাসন। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহুর্ত পর আবারো ফিরে এসে আবারো তর্কে জড়ান রনি। পরে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় রাশেদকে করজোরে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে।

ঘটনার শেষ এখানেই নয়, মারধরের এ ঘটনার প্রায় দুইমাস পর আবারো রনির নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন রাশেদ মিয়া। গত ১৩ এপ্রিল সুগন্ধার বাসা থেকে মুরাদপুর যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর মাজার এলাকায় আবারো রনি ও তার সঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হন রাশেদ।

সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে তিনি লিখেছেন,‘আসামিগণ আমাকে একা পেয়ে টানাহেঁচড়া করে মুরাদপুর বুড়িপুকুর পাড় এলাকায় নিয়ে যায়। এসময় তারা আগের মতই ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি বলি, “এতগুলো টাকা আমি কেমনে দেব”। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল আজিম রনি অফিসে থাকা হকিস্টিক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বারি মারলে আমি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি আমার বাম কানে লাগে। মারাত্মকভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়ে আমার বামকানের শ্রবণশক্তি এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।”

‘এরপর ২ নম্বর আসামি হকিস্টিক দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকেন। এসময় রনি আমাকে ২০ লক্ষ টাকা না পেলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে অনেক বুঝিয়ে বাসা থেকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলি। এসময় ১ নম্বর আসামি বাকি টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দিতে বলে। পরে রনির এক সহযোগী আমাকে সুগন্ধার বাসায় নিয়ে আসে। এসময় বাসায় ৩৫ হাজার টাকা পাই এবং সাথে সাথে তা হামলাকারীদের হাতে তুলে দেই, সঙ্গে রনির কথা মেনে আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট ও দেই। পরে তারা আমাকে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম কলেজের গেটে ফেলে দিয়ে চলে যায়।’

এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারে তার মালিকানা আছে বলে দাবি করতেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও এ কোচিং সেন্টারকে রনি নিজের ব্যক্তিগতকাজে ব্যবহার করতেন।

আরো জানতে : রনির আরেক শিক্ষককে পেটানোর ভিডিও ফাঁস (ভিডিওসহ)

https://www.youtube.com/watch?v=tC0py0KYt1o&t=189s

একুশে/এএ/এডি/এটি