চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে যাচ্ছেন ‘শ্রমিকরা’। এ লক্ষ্যে ‘শ্রমিক আইন সহায়তা সেল’ চালু করা হচ্ছে। আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি শ্রম বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে শ্রমিকদের পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করবে এ সেল। এই কার্যক্রমের তত্ববধান করছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা।
শ্রম আইনের ২(৬৫) ধারায় বলা হয়েছে- শ্রমিক অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোন ব্যক্তি, তার চাকুরীর শর্তাবলী প্রকাশ্য বা উহ্য যে ভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোন প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোন ঠিকাদার-এর (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) মাধ্যমে মজুরী বা অর্থের বিনিময়ে কোন দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরী, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরির কাজ করার জন্য নিযুক্ত হন। তবে প্রশাসনিক (তদারকি কর্মকর্তা) বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি শ্রমিক হিসেবে গণ্য হবেন না।
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার কাতালগঞ্জে অবস্থিত চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের নিচ তলায় ‘শ্রমিক আইন সহায়তা সেল’ এর কার্যালয়। এই কার্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন আইন কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারি। এই অফিসে যোগাযোগ করলে যে কোন ‘শ্রমিক’ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন।
কিভাবে এই ‘সেল’ কাজ করবে- জানতে চাইলে বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে শ্রমিক আইন সহায়তা সেলের আইন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, কোনো শ্রমিক পাওনা আদায়ে আইনি সহায়তা নিতে এলে প্রথমে অনুযোগপত্রের মাধ্যমে কারখানা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে পাওনা দিয়ে দিতে বলা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওনা না দিলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করবে সেল। তবে মামলা দায়েরের পরও কর্তৃপক্ষ আশ্রহ প্রকাশ করলে আপস করার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের শ্রমিক আইন সহায়তা সেল পরিচালনায় দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ কমিটি। শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন। কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন শ্রম আদালত আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন- শ্রম আদালতের অন্যান্য বিচারক, একজন যুগ্ন-শ্রম পরিচালক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়িত্বে নিয়েজিত মহাপরিদর্শক মনোনীত একজন কর্মকর্তা, শ্রম আদালতের রেজিস্ট্রার, শ্রম আদালত আইনজীবি সমিতির সভাপতি, একজন করে নারী ও পুরুষ শ্রমিক প্রতিনিধি, শ্রম আদালত নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার একজন প্রতিনিধি, তালিকাভুক্ত মালিক পক্ষের একজন প্রতিনিধি, শ্রম আদালত আইনজীবি সমিতি মনোনীত ৪জন পুরুষ আইনজীবি ও একজন নারী আইনজীবি।
বিধি অনুযায়ী প্রতিমাসে বিশেষ কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই কমিটির সদস্যরা মনোনয়নের দিন হতে ৩ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এ প্রসঙ্গে আইন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) এই সেলের কার্যক্রম চালু হবে; উদ্বোধন হবে আরও কিছুদিন পরে। সেল চালু উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারকরা ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপ-পরিচালক এবং সহকারি পরিচালক। এরপর সেলের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মূলত সেলের সব ধরনের কার্যক্রম অনুমোদন করবেন। সেলের কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ১০ জন প্যানেল আইনজীবি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
আবুল হাসনাত বলেন, গরিব-অসহায় শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। বিনা খরচে শ্রমিকরা আইনি সহায়তা পাবে- এটি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত একটি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে দেশের ১৫টি জেলার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের কার্যক্রম। এই দুইটি শ্রম আদালতে প্রায় দুই হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রথম শ্রম আদালতের দায়িত্বে আছেন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক কাজী শাহীনা নিগার। অন্যদিকে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশী সময় ধরে বিচারক শুন্য থাকা দ্বিতীয় শ্রম আদালত আগামী রোববার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন বিচারক পেতে যাচ্ছে।
