রনি বড় নেতা নাকি, পুলিশ ধরবে না : আমেনা বেগম

চট্টগ্রাম : চাঁদাবাজির মামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে জিডি করার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে অব্যাহতি পাওয়া নুরুল আজিম রনি। অথচ ফেসবুকে সরব রনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার বিরুদ্ধে মামলা করে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদি রাশেদ মিয়া। আর পুলিশ বলছে, রনি আত্মগোপনে। তাকে পুলিশ খুঁজছে।

অন্যদিকে একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, রনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি জামিনের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘রনিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ খুঁজছে। সে আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। ’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রনি এতো বড় নেতা হয়নি যে, তাকে আমরা গ্রেপ্তার করব না। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর, পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।’

এর আগে একুশে পত্রিকাকে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘বিষয়টি সিএমপির কমিশনার দেখছেন। উনিই স্পষ্ট উত্তর দিতে পারবেন।’ তবে সিএমপি কমিশনারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

জিডিতে রাশেদ মিয়া অভিযোগ করেছেন, ‘১৯ এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে আমি বাসার বাইরে থাকাকালীন সময়ে রনি ও নোমানসহ তাদের সহযোগি অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জন আসামি আমার বর্তমান ঠিকানার বাসায় গেইটের সামনে এসে আমাকে খোঁজাখুজি করতে থাকে। অমাকে না পেয়ে আমার বাসা দারোয়ানকে আমি ও আমার স্ত্রী আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তার প্রতিত্তরে দারোয়ান আমরা কেউ নাই বলে জানালে আসামিরা চিৎকার করে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে চলে যায়। একপর্যায়ে আসামিরা আমাকে না পেয়ে আমার কোচিং সেন্টারে গিয়ে আমাকে খোঁজাখুজি করতে থাকে এবং আমাকে না পেয়ে আসামিরা উক্ত স্থান থেকে চলে যায়।’

‘আসামিদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ফোন নম্বর হতে আমার ব্যবহার করা মোবাইলে ফোন করে আসামিদের নামে কোন মামলা না করার জন্য একং করলে আমাকে দেখে নেবে সহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এক ও দুই নম্বর আসামিসহ তাদের সহযোগি অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে আমি নিজেই বাদি হয়ে এজাহার দায়ের করি। যা পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং- ০৯, তারিখ ১৯/০৪/২০১৮, ধারা ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৫, ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৪ দণ্ডবিধি রুজু হয়। এবস্থায় উল্লেখিত আসামিদের এমন কার্যকলাপে আমিসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।’

প্রসঙ্গত, নগরীতে এক অধ্যক্ষকে মারধর নিয়ে সমালোচনার রেশ না কাটতেই এবার এক কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর অভিযোগ উঠে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় বাদী হয়ে মোহাম্মদ রাশেদ নামের ওই ভুক্তভোগী নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামালা দায়ের করেন। এতে রনি ও তার বন্ধু নোমানকে আসামি করা হয়েছে।

একুশে/এডি/এটি