ছবিতে মে দিবসের শ্রমিকেরা …

সভ্যতার রূপায়ন ঘটেছে শ্রমিকের হাতুড়ির আঘাতে আঘাতে। শ্রম দিয়েই দুনিয়ার অগ্রযাত্রা। শ্রমেই সৃষ্টি। অথচ শ্রমিক তার অধিকার হারা সভ্যতার শুরু থেকেই। ইটের ওপর ইট গেঁথে আকাশচুম্বী প্রাসাদে বসে যখন মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন বোনা হয় ঠিক তখনও শ্রমিকেরা অধিকার আদায়ে বুকের রক্ত ঝরায়। বঞ্চিত খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস ১৩২ বছর পেরুল।

বছর ঘুরে আবারো ১ মে। মহান মে দিবস। কিন্তু তাদের কাছে অন্য দিনগুলোর মতোই দিনটি। আজ তাঁদের কল্যাণেই দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মে দিবস। অথচ প্রচণ্ড গরমে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। চট্টগ্রামের মাছিরঘাট এলাকা থেকে ছবিগুলো তুলেছেন আমাদের ফটো করেসপন্ডেন্ট – আকমাল হোসাইন

হাজার বছরের বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। শ্রম ঘণ্টা কমিয়ে আনার দাবিতে এদিন শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন।

এক লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরো অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝান্ডা হাতে সমবেত হন সেখানে। বিক্ষোভ চলাকালে এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান।

পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুরু করে।

রক্ত দিয়ে কেনা শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার এদিনটিকে বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ব্রিটিশ আমল তথা ১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে দিবস পালিত হয়। তারপর পাকিস্তান আমলেও মে দিবস যথাযথ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয়। ওই বছর সদ্য স্বাধীন দেশে ১ মে সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়।

সংকলন : আবু আজাদ