‘মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে’

চট্টগ্রাম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেরিটাইম ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বুধবার সকালে চান্দগাঁওস্থ কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার হাজী সাবের আহমেদ কন্টেইনার ইয়ার্ড লিমিটেড সংলগ্ন স্থানে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করবে। মেরিটাইম বিষয়ের বিভিন্ন দেশের শিক্ষকরা এখানে ক্লাস করাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে সহায়ক অংশগ্রহণ হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রকল্প সংলগ্ন খালে একটি কালভার্ট ও শিল্প এলাকার সড়কটির আধুনিকায়ন করা হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, সারা পৃথিবীতে মাত্র ১২টি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখন বাংলাদেশ এই সংখ্যায় নতুন যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই সাফল্য সমগ্র চান্দগাঁওবাসীর। এই সাফল্যের হাত ধরে এই এলাকায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’র ভাইস চ্যান্সেলর রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে মেরিটাইম বিষয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে জনবল কাঠামো আবেদনের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৭৮৭জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের নকশা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন কমান্ডার নাজমুল হাসান। এ সময় নৌবাহিনী কমোডর মো. আসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, আবুল হাশেম, কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন, মো.আজম, সাইফুদ্দিন খালেদ, ওয়াসা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ওয়ার্ড কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার হামিদচরে নির্মিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। ১০৬ একর জায়গার উপর ৯৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নদী,উপকূলীয় ও মহাসাগরীয় আইন এবং প্রকৌশলের উপর ৭টি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০১৩ সালে ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এসআর/একুশে