পৃথিবীর ১২টি মেরিটাইম ইউনাভার্সিটির একটি চট্টগ্রামের মোহরায়

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধূর নামে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এই কালুরঘাট থেকেই হয়েছে। আর এখানেই হচ্ছে, দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনাভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই দেশের ইতিহাসে কালুরঘাটের নাম উজ্জ্বল থাকবে। সারা পৃথিবীতে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১২টি, ভারতে ২টি থাকলেও পাকিস্তান আর শ্রীলংকায় নেই। তার মধ্যে একটি আমাদের দেশেরে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের মোহরায় হচ্ছে। সেজন্য আমাদের ছেলেদের প্রস্তুত হতে হবে এখানকার শিক্ষার্থী হবার জন্য।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনাভার্সিটি বাংলাদেশ এর স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এটির যখন স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থান পছন্দের কাজ চলছিল আমি তখন প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, উনি সেই কথা রেখেছেন। আমার নির্বাচনী এলাকাতে করার সম্মতি দিয়েছেন। তাই আজকের দিনটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য, মোহরাবাসীর জন্য গৌরবের আনন্দের দিন হয়ে থাকবে। বাঁচতে হলে সমুদ্রকে চিনতে হবে, সমুদ্র কিছু কেড়ে নিলেও তারচেয়ে বেশি ফেরত দেয় কিন্তু।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস ঢাকার মিরপুরে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থান পছন্দের কাজ চলছিল তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের স্থানে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন। সেকারণে আমি চট্টগ্রামবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।’

এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ‘দেশে বর্তমান কোটা প্রথা না থাকলেও এই বিষয়টি তুলে নতুন করে বির্তক করার দরকার নেই। এখানে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির অধীনে ৩৮টি বিভাগে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে। ব্লু ইকোনোমি সুফল করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই। এখানে অনেকে অনেক দাবি তুলেছেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক পরিচালিত হবে। এখানে ভর্তির বিষয়ে কোনো স্বজনপ্রীতি, কোটার কথা চলবে না। এখানে মেধার ভিত্তিতেই সকলে সম সুযোগ পাবেন। আর ব্শ্বিমানের অবকাঠামোর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণে বিশ্বমানের ঠিকাদাররা কাজ করবে। তাই স্থানীয়রা কেউ ঠিকাদারী করার জন্য তদবির চাপ দিতে পারবেননা।’

মেয়র আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর জন্য এই বিশ্ববিদ্যায়টি পরম পাওনা ও সম্মানের গৌরবের বিষয়। চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় সাংসদ মইন উদ্দিন খান বাদলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। উনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বন্দরের মালিকানাধীন ১০৬ একর ভুমি যার মূল্য ৭০০ কোটি টাকা। আর এমপি মহোদয়ের চেষ্টায় সেটি প্রতীকী মূল্যে মাত্র ১ হাজার ১টাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিনে সেটি মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে দান করেছেন। এরজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

নাছির আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আইনী লড়াইয়ে মিয়ানমার ও ভারত থেকে আমরা সমুদ্র সীমা জয় করেছি। তবে সেটির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি আর মেধার প্রয়োজন। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয় সেই দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামিদচর এলাকায় প্রায় দশ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে সিটি করপোররেশন। এরপরও সব ধরণের সহযোগিতা আমরা করব। আর যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা আজকের অনুষ্ঠানের চিঠি পেয়েও আসেননি। তাদের কাছে আমি লিখিত জবাব চাইব। আগামীবার তাদের হাজির হতে আমি বাধ্য করবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে। বিশাল অবকাঠামোগত ‍উন্নয়ন হবে। এটিকে পৃথিবীর সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে আমরা চেষ্টা করব। মেয়র, এমপিসহ সকল সরকারি সংস্থা আমাদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। মোহরা ও বাকলিয়া মৌজার ১০৬ দশমিক ৬৬ একর ভূমির ওপর এ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে নামমাত্র মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চীন ভিত্তিক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ববধায়নে নির্মাণ করবে।’

বক্তব্য রাখেন নৌবাহিনীর কমডোর আসলাম পারভেজ, কমডোর এম নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রকৌশলী), জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবউদ্দিন, জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খান, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, কাউন্সিলর সাইফুদ্দীন খালেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক, ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

একুশে/এডি