চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়কে (সিভাসু) গবেষণাভিত্তিক একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। ইতোমধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দুইদিন ব্যাপী ১৫তম আন্তর্জানিতক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান West Bengal University of Animal and Fishery Sciences Gi Vice-Chancellor Prof. Dr. Purnendu Biswas এর Department of Biotechnology, Pukyong National University, South Korea Gi Prof. Young-Ki Hong সিভাসু’র প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ এবং Department of Biotechnology, Pukyong National University, South Korea Gi Prof. Young-Ki Hong। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয়: “বাংলাদেশের মতো একটি মধ্যম আয়ের দেশের টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভূমিকা-Role of Livestock and Fisheries towards a sustainable food system for a middle-income country like Bangladesh”। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রায় ২৫০ জন বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টেকনিক্যাল সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিস্থ ইন্টারন্যাশনাল লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের লিডার ড. মো. আবদুল জব্বার। দুই দিনের সম্মেলনে মোট ৭টি টেকনিক্যাল সেশনে ১টি মূল প্রবন্ধ এবং ৪৯টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। সম্মেলনে বিষয়সংশ্লিষ্ট ২৫টি পোস্টার প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা শিক্ষাখাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি।”
তিনি বলেন, “শিক্ষাখাতে গুণগত পরিবর্তন আনা এখন আমাদের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ এবং এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং ধীরে ধীরে এর ফল পাচ্ছি। আমরা নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বের প্রজন্মের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজেদের জায়গা করে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, খাদ্য সরবরাহ এবং জীবিকা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের প্রোটিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আশাকরি, সিভাসু তাদের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী উন্নয়নের পথ তৈরি করবে। আমরা দেশের এ অংশে সিভাসুকে একটি মডেল গবেষণা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত অডিটোরিয়ামের নাম ফলক উম্মোচন করেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি
