চট্টগ্রাম : ২০১৬-১৭ সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে পরের সেশনে পুনর্বার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর আকস্মিক জরিমানা ধার্য্য করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ১৭ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ সেশনে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করেছে তাদের ভর্তি বাতিল হয়নি। যারা ১ম বর্ষের সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদেরকে ৭ হাজার, এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করে আন্দোলনে নেমেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। জরিমানার নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধনে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এসময় আন্দোলনকারিরা ‘জরিমানা কোথায় পাই, আলাদিনের চেরাগ নাই’, এনইউতে দুর্গতি, বন্ধ করো জালিয়াতি’সহ নানা স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৬-১৭ সেশনে আমরা নির্দিষ্ট কলেজে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে ভর্তি বাতিল করে ২০১৭-১৮ সেশনে পছন্দের বিষয় নিয়ে পছন্দের কলেজে ভর্তি হই। একবছর পর কদিন আগে হঠাৎ করে ভর্তি বাতিল করা শিক্ষার্থীদের ওপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অযৌক্তিক জরিমানা ধার্য্য করেছে। এই জরিমানা পরিশোধ করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া এই জরিমানা এই বছর থেকে আকস্মিকভাবে চালু করেছে।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন মো. মিজান। ২০১৬-১৭ সেশনে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে গণিতে ভর্তি হন তিনি। পারিবারিকভাবে চটগ্রাম নগরে বসবাসকারি মিজান ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একই বিষয়ে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে রাঙ্গামাটি কলেজের ভর্তি বাতিল করেন।
মিজান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমার বাসা চট্টগ্রাম শহরে হওয়ায় রাঙ্গামাটি কলেজে ক্লাশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছিল। পরের বছর সিটি কলেজে ভর্তির পর নিয়মান্ত্রিকভাবে রাঙ্গামাটি কলেজের ভর্তি বাতিল করি। একবছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এসে বললো, আমাদেরকে ১০ এবং ৭ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। আমরা যে ভর্তি বাতিল করেছিলাম তার কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রদান করেছে। তারপরেও কেন আমাদেরকে এত জরিমানা দিতে হবে? প্রশ্ন মিজানের।
এদিকে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষকে এক দিনের মধ্যে অযৌক্তিক জরিমানা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আগামীতে আরো কঠোর কমূসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
একুশে/এএইচ/এটি
