চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোডের বাজে অবস্থা নগরের যানজটকে অনেকাংশে উসকে দিচ্ছে জানিয়ে ঈদের আগে এই দুটি সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চান মেয়রের কাছে। মেয়র বলেন, ঈদের আগে কেমনে? এখানে আলাদিনের চেরাগ তো নেই! কারণ এটা জাইকার প্রকল্প। অনেক বড় রাস্তা। প্রায় দুই-দুই চার কিলোমিটার দুটি লটে কাজ করা হচ্ছে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ২. ৪৮ কি.মি. সড়কের কাজ হচ্ছে। তিনটা আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এখানে। জানুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এ রাস্তার কাজ ২০১৯ সালের মে মাসে শেষ হবার কথা রয়েছে।
মেয়র বলেন, কাজ শেষ না হওয়ার আগে যদি প্রতিদিন বলতে থাকেন আজকে কাজ শেষ করেন, কালকে কাজ শেষ করেন- তাহলে তো হবে না। প্রত্যেকটা কাজের একটা ধরন আছে। তাছাড়া এখানে তো টেকসই ও মানসম্মত কাজ করতে হবে। কাজেই ভালো কাজের জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ জানান মেয়র।
সাংবাদিকদের সঙ্গে নগরের যানজট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন মেয়র। যানজটের জন্য অপরকল্পিত নগরায়ন এবং ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, নগরের সবখানে অপরকল্পিত নগরায়নের কুপ্রভাব পড়েছে। নগরের সেবা সংস্থাগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সমন্বয় নেই। সবগুলো সংস্থা একসঙ্গে উন্নয়ন করছে, খোড়াখুড়ি করছে। সবারই যেন একসঙ্গে প্রসববেদনা!
ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা যানজটের জন্য অনেকটা দায়ী উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে যখন-তখন কথা বলে। এরফলে পেছনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে মুহূর্তে যানজট সৃষ্ট হচ্ছে। মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে, পাশেই পার্কিং করছে একশ্রেণীর লোক। পুলিশ কিছুই বলছে না।
মেয়রের মতে, যানজট নিরসনের জন্য সবার আগে সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকে আরো বেশি তৎপর, আন্তরিক হতে হবে। বন্ধ করতে হবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং।
নগরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত আরাকান সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতি মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকেরা।
এসময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আপনারা জানেন, ওয়াসার চারটি প্রকল্প, একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। একযোগে আরো তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে আলাদা আলাদা ঠিকাদারের মাধ্যমে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে কোনো সমন্বয় থাকছে না। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা ওয়াসাকে বার বার তাগিদ দিয়েছি। আমাদের প্রকৌশল বিভাগ এবং তাদের প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে সমন্বয় করে দিয়েছি। ওয়াসার এমডির সঙ্গে আমি নিজেই কয়েকদিন পর পর কথা বলি। যাতে ওনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চাপের মধ্যে রাখেন সময়মতো কাজগুলো শেষ করার জন্য। কিন্তু প্রত্যেকটা প্রকল্প দেখা যাচ্ছে ২০২১, ২০২১ নাগাদ শেষ হবার কথা। আমি এর বেশি চাপ দিতে পারি না, কাজে বাধা দিতে পারি না। কারণ, এগুলো একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প। সুপেয় পানিও মানুষের দরকার আছে তো নাকি! যে কারণে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আমাকে সহায়তা করতে হচ্ছে। আর বাস্তবায়ন করতে গেলে তো ভোগান্তির বিষয়টা স্বাভাবিক। এটা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
মেয়র বলেন, এরপরও সেতুমন্ত্রী মহোদয় আমাকে ফোন করেছিলেন। ওয়াসার এমডিকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। সংসদ সদস্য মাইন উদ্দিন খান বাদল সাহেবও রাস্তাটির দুর্ভোগ নিয়ে বারে মাননীয় মন্ত্রীকে বলেছেন। মাননীয় মন্ত্রী বলাতে কালুরঘাট পর্যন্ত আরাকান সড়কের একপাশ আমরা ইতোমধ্যে ক্লিয়ার করে দিয়েছি। ওয়াসা যতদিন পর্যন্ত কাজ শেষ করে রাস্তাটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে না ততক্ষণ আমাদের কিছু বলার নেই। কাজেই জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে আমরা জানি, বুঝি। এর বিকল্প অপশনও তো নেই। ভালো কিছুর জন্য একটু ধৈর্য ধরতেই হবে-বলেন সিটি মেয়র।
একুশে/এটি
