ঢাকা: কল্যাণপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নিহত নয় জনের মধ্যে আট জনের নাম জেনেছে পুলিশ। ৫ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাড়িতে অভিযানের পর আটক ‘জঙ্গি’ হাসান এদের নাম বলেছেন বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। তবে এই নাম সঠিক কি না, তা নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হাসানের দাবি অনুযায়ী নিহতদের আট জন হলেন রবিন, অভি, ছাব্বির, আতিক, সোহান, ইমরান, তাপস, ইকবাল। অন্য একজনের নাম তিনি জানাতে পারেননি।
অভিযানে গুলিবিদ্ধ হাসান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে সেখানেই কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আর এক পর্যায়ে নিজের ‘আইএস সম্পৃক্ততা’, কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা এবং সঙ্গীদের বিষয়ে কিছু তথ্য পায় পুলিশ। তবে হাসানের বক্তব্য পুরোপুরি শ্বিাস করছে না বাহিনীটি। এগুলো যাচাই বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদ করা এক কর্মকর্তা।
হাসানের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি বলেছেন, তার বাবার নাম রেজাউল। বগুড়ার শাহ সুলতান কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি।
হাসান জানায়, এক মাস আগে তাকে কল্যাণপুরের ওই বাসায় নিয়ে আসে রবিন। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই এক মাসের মধ্যে তাকে ভবন থেকে নিচে নামতে দেওয়া হয়নি। তার দায়িত্ব ছিল সবাইকে রান্না করে খাওয়ানো। রাতে পুলিশের অভিযান টের পাওয়ার পর তিনি ওপর থেকে লাফ দেন।
রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ১ নম্বর ব্লকে চিকিৎসাধীন আছেন হাসান।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর কমান্ডো অভিযান শেষে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত জঙ্গিদের নাম জানা গেলেও পরে প্রমাণ হয় সেগুলো সঠিক ছিল না। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানায়, নিহত জঙ্গিদের নাম আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। কিন্তু পরে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা যায় এই হামলাকারীরা হলেন নিবরাস ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খাইরুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম।
এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজ অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেন তার ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যা দেন। এতে তিনি লিখেন, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের সদস্যদের নামকরণের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। দলে ভেড়ানোর পর থেকে নতুন সদস্যদের নাম ক্রমাগত পরিবর্তন আসতে থাকে। আস্তানা পরিবর্তন, নতুন বাসা ভাড়া, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রদান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ ও হস্তান্তর, দাওয়াতি কার্যক্রম পরিবর্তনের সময়ে তাদের নতুন নতুন নাম দিয়ে থাকে তাদের ওপরের সারির নেতারা। একজন জঙ্গি সদস্য যতবার এইসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে ততবার তাদের নতুন নাম দেয়া হয়’।
