চট্টগ্রাম : নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা কবির টাওয়ারের সামনে ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া কিশোর আরাফাতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। একই সঙ্গে আরাফাত হত্যায় জড়িত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সহযোগিতার কথাও জানান মেয়র।
রোববার দুপুরে নগর ভবনে নিজ কার্যালয়ে আরাফাতের পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গেলে মেয়র এ আশ্বাস দেন।
মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আরাফাতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, নিহত আরাফাতের মা গুলজার বেগম, ছোট ভাই আরিফ, মামা নুরুল আবছার ও চাচাতো ভাই মহিউদ্দিন রুবেল। এসময় এ সাক্ষাতের সমন্বয়কারী তরুণ রাজনীতিক ও সংগঠক আলম দিদারও উপস্থিত ছিলেন।
আরফাতের মা গুলজার বেগম মেয়রকে কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি এসময় তাঁর ছেলের খুনির ফাঁসি নিশ্চিতে মেয়রের সহযোগিতা চান।
জবাবে প্রকাশ্যে জনসমাগমের মাঝে এরকম ছুরিকাঘাত করে করা এ হত্যাকাণ্ডে উষ্মা প্রকাশ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘কীভাবে নির্মমভাবে প্রকাশ্যে একটা ছেলেকে খুন করা হলো। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সব ধরণের সহযোগিতা করব। আমি আপনাদের পরিবারের পাশে আছি। খুন যেহেতু হয়ে গেছে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া এখন আর কি বলব?’
পাশে থাকা আলম দিদার আরাফাতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও তার ছোট ভাই আরিফকে সিটি করপোরেশনে একটি চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য মেয়রের কাছে অনুরোধ করেন। জবাবে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘তার বয়সতো এখনো ১৮ বছর হয়নি। তাই এখনই চাকরি দেয়া সম্ভব না। তবে কোনও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাকে ভর্তি করি দেন। তার পড়ালেখার সব সহযোগিতা আমি করব। বয়স হলে চাকরির ব্যবস্থা করব। আর যে কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন।’
এসময় আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যে কোনও ধরণের সহযোগিতার জন্য মেয়রকে জানাতে আলম দিদারকে নির্দেশও দেন তিনি।
মেয়রের আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত আরাফাতের মা গুলজার বেগম বলেন, ‘আমি কোনো দিন মেয়রকে দেখিনি। আজকে উনার সামনে কথা বলতে পেরে মনকে হাল্কা করতে পেরেছি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই, খুনির ফাঁসি চাই। সেজন্য মেয়রের সহযোগিতা চেয়েছি। উনি আমাকে কিছু আর্থিক সহযোগিতাও করেছে। আমার ছোট ছেলের পড়ালেখার খরচ সহ কোনও ধরণের সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ রাখতে বলেছেন মেয়র। এখন আমার ঘরটা যদি মেয়র সংস্কার করে দেন উপকার হবে।’
উল্লেখ্য, গত গত ২২ মে রাতে কবির টাওয়ারের সামনে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে আরাফাতকে ‘হত্যা করে’ আরমানসহ তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় আরাফাতের মা গুলজার বেগম বাদি হয়ে আরমানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন চান্দগাঁও থানায়। ঘটনার দিন জনগণের সহযোগিতায় দু জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গতকাল শনিবার প্রধান আসামি আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
একুশে/এডি
