গিকার বিরুদ্ধে আদালতে চার মামলা, পরোয়ানা

চট্টগ্রাম : ফটিকছড়ি বিএনপির ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট-৪ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী প্রধানমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

একই দিন চট্টগ্রামের আদালতে আরো তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান খানের আদালতে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি গিকার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। মামলা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

একই অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই আদালতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলমও একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২৮ জুন আসামি গিয়াস কাদেরকে হাজির হবার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

একই সময়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে আরেকটি মামলাটি দায়ের করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অাকরামুল হক বাদল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, ২৯ মে জিয়াউর রহমানের ৩৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আপনার বাবার চেয়েও আপনার অবস্থা খারাপ হবে। আপনার বাবার মৃত্যুর পর যেমন ইন্নালিল্লাহ পড়ার লোক ছিল না, আপনার পরিণতি তার চেয়েও খারাপ হবে। তিনি বলেন, কোনো সভ্য দেশে এত মানুষ খুনের নজির নেই। ক্রসফায়ারের নামে এত মানুষ হত্যার দায় আপনাকে নিতে হবে। ’

একুশে/এটি/এডি