বিদেশে বাংলাদেশি পতাকার ৮ নারী ভ্যানগার্ড

ওমর ফারুক হিমেল, দক্ষিণ কোরিয়া : বাংলাদেশে তিন শতাধিক কূটনীতিকের মধ্যে নারী আছেন প্রায় ৬৬ জন। শতাংশে ২০। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৪৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৯ জনই নারী। তারপরও ১৯৭৯ সালে পররাষ্ট্র সার্ভিসে প্রথমবারের মতো নারী কূটনীতিকের অন্তর্ভুক্তির তিন দশক পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। আর কূটনীতির মতো চ্যালেঞ্জিং ও সাহসী এই পেশায় নারীরা পুরুষের চেয়ে দক্ষতা ও মেধায় পিছিয়ে নেই।

জানা গেছে, এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মিলে ৮ জন নারী রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব পালন করছেন। এর একজন বাংলাদেশি নারী কূটনীতিক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদর দপ্তরে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বলাবাহুল্য পররাষ্ট্র দপ্তরে প্রায় ৩০ শতাংশ কূটনীতিকই ফরেন সার্ভিসের বাইরের। অধিকন্তু নারী রাষ্ট্রদূতদের সবাই পেশাদার ও চৌকস। অনেক নারী বিদেশি মিশনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষতা ও সততার সঙ্গে। কাজ করছেন দেশের পতাকার ভ্যানগার্ড হিসেবে।

আবিদা ইসলাম : ছোটকাল থেকেই চ্যালেঞ্জ ভালোবাসতেন। চলতেন সুন্দর, মঙ্গলালোকের পথে। চ্যালেঞ্জিং জীবন বেছে নেবেন দেশের জন্য, কাজ করবেন দেশের মানুষের জন্য- সেই কাজের জন্য ঘুরে বেড়াবেন বর্ণিল পথে, দেশ থেকে দেশান্তরে।

সেই ব্রত আর লক্ষ্য নিয়ে আশৈশব বেড়ে ওঠা, গড়ে তোলা আবিদার জীবন বাস্তবিকই আজ চ্যালেঞ্জিং, বর্ণময়Ñ ঠিক যেমনটা তিনি চেয়েছিলেন; দেশকে, দেশের মানুষকে দিতে দিতে জীবনটাকে উপভোগ যেমন করছেন, তেমনি একে একে ভাঙছেন সাফল্যের সিঁড়ি, যে সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছে একটি উচ্ছ্বল, উজ্জ্বল বাংলাদেশের গল্প।

গল্পটি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশ্বের ১১তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় যিনি; সেই রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের।

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত পরিবারে জন্ম রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের। বাবা প্রয়াত নজরুল ইসলাম ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান কর্মকমিশনে যোগ দিয়ে ক্রমান্বয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মা সেলিনা ইসলাম ছিলেন উন্নয়নকর্মী।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট’র শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রাজধানীর হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন আবিদা ইসলাম। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মনাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৫ তম ব্যাচের মেধাবী এ সদস্য ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি বিদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা, দূরপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আমেরিকা-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, জঙ্গিবাদ এবং প্রশাসন উল্লেখযোগ্য। তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন, কলম্বো এবং ব্রাসেলসে চাকরি করেছেন। তিনি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনে বাংলাদেশের প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার (হেড অফ মিশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার এবং সামিটে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বরেণ্য এ কূটনীতিক। সর্বশেষ ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা উইংয়ে দেড়বছর কর্মরত থাকার পর ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তান আরশাদ আহমেদ, আয়শা আহমেদ-এর জননী পেশাদার এ কূটনীতিক।

সামিনা নাজ : ভিয়েতনামে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ১৫ তম বিসিএস সদস্য হিসেবে ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন।

দেশের বাইরে সামিনা নাজ-এর প্রথম কর্মজীবন শুরু হয় নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে। সেখান থেকে বাংলাদেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কিছুদিন। এরপর তাকে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের থার্ড কমিটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে। সাড়ে তিন বছর সামাজিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে কাউন্সিলর পদে পদোন্নতি পান। এরপর তাকে একই পদে দিল্লিতে প্রেরণ করা হয়।

দিল্লিতে পৌনে তিন বছর কাজ করে সামিনা বাংলাদেশে ফিরেন। সে সময় মা হতে চলেছেন তিনি। এ কারণে প্রথমে পরিচালক এবং পরে মহাপরিচালক হিসেবে প্রায় সাত বছর ঢাকায় ছিলেন। স্বদেশ কিংবা বিদেশে; যেখানেই গেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন সামিনা। এমনকি জমজ সন্তান জন্ম দেয়ার দশ দিন আগেও তিনি দেশের কর্মস্থলে অফিস করেছেন।

টুইন সন্তানের বয়স পাঁচ হওয়ার পর আবার দেশের বাইরে পোস্টিং নেন সামিনা নাজ। এসময় সামিনাকে বলা হয় ভারতের মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের একটি নতুন মিশন খুলতে। ২০১৩ সালে সামিনা মুম্বাইয়ে প্রথম বাংলাদেশ মিশন অফিস খোলেন। তিনিই প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত, যার অধীনে কোনো নতুন মিশন-অফিস খোলা হয় মুম্বাইয়ে।

এভাবেই সামিনার পেশাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এসেছে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ। পররাষ্ট্র ক্যাডারে নারীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণে প্রথম ব্যাচ, নিজ ব্যাচ থেকে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত, প্রথম নারী হিসেবে কোনো দেশে মিশন অফিস চালু করা।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় ২০০৮ সালে প্রথম নারী ‘ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল ভিজিট’ হন সামিনা। আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের প্রথম নারী পরিচালকও তিনি।

সম্প্রতি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর-সক্ষমতা, সফলতার স্বাক্ষর রাখলেন হ্যানয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। ২০১৫ সাল থেকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ দিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ যোগদানের ছয় মাসের মধ্যে এই সফর হলো।

ঢাকার আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে এসএসসি, হলিক্রস কলেজ থকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অনার্স, মাস্টার্স করেন সামিনা নাজ।

রেজিনা আহমেদ : রেজিনা আহমেদ কনসাল জেনারেল হিসেবে আছেন মিলানে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার তাঁকে মরিশাসের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে। রেজিনা আহমেদকে মিয়ানমারে পরবর্তী রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তাকে গ্রহণে নেপি’ডর তরফে সম্মতি পাওয়ার পর নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছিল সরকার। কিন্তু নতুন বছরে এসে সরকার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রেজিনা আহমেদকে মরিশাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে। গত ৮ মে থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়। এর আগে মিলান, ক্যানবেরা, মস্কো এবং ইয়াংগুনে বাংলাদেশ মিশনে কাজ করেন রেজিনা আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে রেজিনা আহমেদ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন রেজিনা আহমেদ। তিনি ১৯৯৪ সালে বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে কূটনীতিক জীবন শুরু করেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া বিভিন্ন দ্বি-পক্ষী বৈঠকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সাঈদা মুনা তাসনীম : ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদোন্নতির আগে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান ছিলেন সাঈদা মুনা তাসনীম। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরের প্রচারণা উইংয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সাল থেকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে (রাজনৈতিক ও প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ডেপুটি হেড এবং কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুনা তাসনীম জাতিসংঘে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন ক্ষমতা এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণপূর্ব এশীয় এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক), বঙ্গোপসাগর ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) হিসেবে পশ্চিম এশিয়া ও অন্যান্য অংশে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমএফএ আমেরিকা এবং প্যাসিফিক উইংয়েও কাজ করেন মেধাবী এ কূটনীতিক। লন্ডন ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন পদে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তাসনীম ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর প্রধান কার্যালয়ে শিল্পপরিকল্পনা প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ স্কুল থেকে পাবলিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং এর উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি।

১৯৭৫ সালে সাঈদা মুনা তাসনীমের পরিবার লেবানন চলে যায়। সেখানে একটি ব্রিটিশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে পরিবারের সঙ্গে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন মুনা। বাবার আগ্রহে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯৯৩ সালে ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনকূটনীতি ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন থাইল্যান্ডের মেধাবী এ রাষ্ট্রদূত।

মাশফি বিনতে শামস : নেপালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস একজন বয়োজ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এ কূটনীতিক।

কূটনৈতিক জীবনে তিনি রোম, ব্যাংকক ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এ কূটনীতিক।

রাবাব ফাতিমা : জাপানে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বিসিএস ক্যাডারের সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন ১৯৮৬ সালে। লন্ডনে কমনওয়েলথ সচিবালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর সাথে ২০০৬ কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সাথে প্রত্যর্পণে দীর্ঘ ১০ বছর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসেন।

এর আগে তিনি নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে, কোলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে, জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং বেইজিংয়ের বিভিন্ন দূতাবাসে বিভিন্ন পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। একজন কূটনীতিক হিসাবে মানবাধিকার এবং মানবিক বিষয়গুলোতে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং বিশিষ্টতা রয়েছে এ কূটনীতিকের।

রাবাব ফাতিমা ফ্লেচার স্কুল অফ ল অ্যান্ড কূটনীতি, টুফস ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে মাস্টার্স করেছেন। তাঁর স্বামীও একজন কূটনীতিক। নওরীন নামে তাদের একটি মেয়ে আছে। রাবাব ফাতিমা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সুলতানা লায়লা হোসেন : মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১১ তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বরেণ্য এ কূটনীতিক নয়াদিল্লি ও ইয়াংগুনের বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) হিসেবেও কাজ করেছেন। লস এঞ্জেলসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের দায়িত্বেও ছিলেন সুলতানা লায়লা হোসেন।

ইসমাত জাহান : বিদেশে দায়িত্বরত নারী রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ইসমাত জাহান। বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের এ কর্মকর্তা বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি লিয়েনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদর দপ্তরে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছেন। ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসির রাষ্ট্রদূত। স্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে। ছিলেন ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। লন্ডন মিশনেও কাজ করেছেন এ কূটনীতিক।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এবং নেদারল্যান্ডের দূত হিসেবে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দফায় বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে কর্মরত ছিলেন।

তিনি সিইডিএ ডব্লিউ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং নারীবৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৬০ সালের ৩ জুন বরেণ্য এই কূটনীতিকের জন্ম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে অধ্যয়ন করেন। তাছাড়া হার্ভাড ইউনিভার্সিটি থেকেও উচ্চতর ডিগ্রী নেন তিনি।

একুশে/ওএফএইচ/এটি