সরকার হটাতে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই : নোমান

চট্টগ্রাম : আইয়ুব খানের পেতাত্মরা দেশের মানুষের উপর চেপে বসেছে তাই এদেরকে হটাতে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

রোববার নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত শফিউল আলম প্রধান এর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর জাগপার দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেছেন, ‘স্বৈরচা্রকে পরাজিত করতে হবে, আয়ুব খানের পতন হয়েছে, জনগণের হাতে ক্ষমতা গেছে।আইয়ুব খানের পেতাত্মরা আবার আমাদের উপর চেপে বসেছে।এদেরকে হটাতে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।বর্তমান অবৈধ সরকার প্রধান সংবিধান পরিবর্তন করে একক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন।এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে একটি ভোট দেওয়ার জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে হচ্ছে।’

আবদুল্লাহ আল নোমান আরো বলেন, এই অবস্থা একমাত্র পরিবর্তন করতে পারে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ব্যালট। ব্যালট যাতে নিশ্চিতভাবে বাক্সে দেওয়ার অধিকার ও সুযোগ জনগণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা, দুর্নীতিমুক্ত ও যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারলে ২০ দলীয় জোট আন্দোলন, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে পারবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হবে, নির্বাচন কমিশন হবে দল নিরপেক্ষ। দেশের প্রতিটি আর্থিক খাত থেকে সরকার সীমাহীন লুটপাট চালিয়েছে। শেয়ার বাজার, ব্যাংক-বীমা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান সব জায়গা থেকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। বিদ্যুৎ সেক্টরে তাদের লুটের কুফল আজ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ ধারার রাজনীতি প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাগপার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, দিনাজপুরের ইতিহাস ও শফিউল আলম প্রধানের ইতিহাস এক অভিন্ন ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দিনাজপুরের গণমানুষের দুর্দিনের কান্ডারী শফিউল আলম প্রধানের ইতিহাস পরাধীনতা ভেঙে স্বাধীনতার ইতিহাস। তিনি আজীবন কৃষক-শ্রমিক, মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মজলুম মেহনতি মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।

তিনি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জগদ্দল পাথরের মত দেশের মানুষের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন করে, প্রতিবাদী কন্ঠকে দমন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাদক বিরোধী অভিযানের নামে আগাম ঘোষণা দিয়ে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীর গডফাদারদের রক্ষার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ক্রসফায়ারসহ মিথ্যা মামলায় আসামী করা হচ্ছে।

জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ব্যারিষ্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে শফিউল আলম প্রধান ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। আজ সেই রকম বিদ্রোহী কণ্টেস্বরের বড় প্রয়োজন।সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে তাঁর বুক কখনও কাঁপেনি।দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের জন্যে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন তিনি। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে প্রধানের মতো একজন সাহসী যোদ্ধার খুবই প্রয়োজন ।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় জাগপার সহসভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাছ বলেন, সরকার দাবি করে তারা নাকি উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে। প্রকৃত অর্থে দেশের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। লুটপাটের টাকায় উন্নয়ন হচ্ছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের। ঈদের পরে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি এই সরকার, তার মন্ত্রী এমপি ও নেতাদের লুটপাটের খতিয়ান তুলে ধরবে।

নজরুল ইসলাম বাবলুর সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন জাগপার কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আহমদ লিটন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এস কে খোদা তোতন, জামাত নেতা এস এস লুৎফর রহমান, এনপিপি নেতা আনোয়ার সাদেক, লেবার পার্টি নেতা আলাউদ্দিন আলী, আবুল কাসেম ইসলামাবাদী, নাজমুল আলম সেলিম, মহিলঅ দলের যুগ্ম সম্পাদিকা আখি সুলতানা, চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় জাগপার সদস্যা চট্টগ্রাম তানিয়া আকতার রূপা, চট্টগ্রাম মহানগর জাগপার সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম, প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুব নেতা মারুফ হোসেন, জাগপা ছাত্রলীগের সাইদুল আজাদ, কামরুন নাহার মনি, শায়রা আকতার শিউলি প্রমুখ।সবশেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন নজরুল ইসালম।