চট্টগ্রাম : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নিজ দলেই বির্তকিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি বলেছেন, ‘মওদুদ আহমেদ বহু আগে থেকেই একজন বিতর্কিত মানুষ। তার ভূমিকা তার দলের মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। তার আচরণ তার দলের নেতারাই বিশ্বাস করেন না।’
রোববার (১৭ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন হাছান মাহমুদ।
আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনি মনগড়া কিছু অভিযোগ ও মিথ্যাচার করেছেন। তার পারদর্শীতা আছে তিনি সন্দুর করে গুছিয়ে মিথ্যে বলতে পারেন। সেই কারণে তিনি সমস্ত স্বৈরাচার সরকারের প্রিয়ভাজন ছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমানের সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরশাদ সাহেবের সময়কালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও দিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় তখন ব্যারিস্টার মওদুদের দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি হয়েছিলো। পরবর্তীতে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তার শাস্তি মওকুফ করেন বঙ্গবন্ধু। আপনার হয়তো অনেকে জানেন না, তিনি পল্লীকবির মেয়ের জামাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বেগম জিয়ার পক্ষে বিএনপি যে আইনি লড়াই করছে। বেগম জিয়ার কথায় সেই আইনজীবী প্যানেল থেকেও মওদুদ আহমেদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকায়ও তিনি বিতর্কিত। বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নিয়েও তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।’
মওদুদের অভিযোগের জবাবে হাছান বলেছেন, ‘যেভাবেই হোক তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে তার নিরাপত্তা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কোম্পানিগঞ্জে গতকাল ঈদের দিন তার সামনেই নেতাকর্মীরা মারামারি করছে। তার কারণে বিএনপিতে সেখানে কয়েকভাগে বিভক্ত। যখন একজন নেতার সামনে তার দলের নেতারাই মারামারি করে, তখন তাকে সহযোগিতা করা তো দায়িত্ব। তখন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর সেই দিনই তিনি কাহিনী সাজিয়েছেন। মওদুদ সাহেব রাজনীতির পাশাপাশি ছোট গল্পও লিখতে পারেন। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। এতে মনে হয়েছে মওদুদ সাহেব ব্যারিস্টারের পাশাপাশি ডাক্তারিও জানেন।’
হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নানা কারণে দলের কাছে বিতর্কিত। মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না। সেই বিতর্ক থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের দলের (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কিছু মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রতি অনুরোধ জানাবো, এ সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করে কোন লাভ নেই। বরং সারাজীবন আপনাকে নিয়ে যে বিতর্ক এবং রাজনীতির মাঠে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য আপনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একুশে/এডি
