ঢাকা: আইএসের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বাংলাদেশে সংগঠনটির কথিত প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হানিফ চৌধুরী এই মুহূর্তে ভারতে অবস্থান করছেন বলে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন বলছে।
ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেয়া এক তালিকার ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিকটি।
বাংলাদেশে আইএসের কথিত প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হানিফ চৌধুরীর প্রকৃত নাম তামিম আহমেদ চৌধুরী বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালে কানাডা থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে দাবি করা হয়েছে এসব খবরে। ২০১৬ সালে আইএসের কথিত প্রোপাগান্ডা ম্যাগাজিন দাবিকে তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার কল্যাণপুরে জাহাজবাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর পুলিশের করা মামলাতেও আসামি করা হয়েছে এই তামিম চৌধুরীকে। এতে তার বিরুদ্ধে জেএমবি ও সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য সংগঠনের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদেরকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে সহায়তা ও প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তামিমকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মূল পরিকল্পনাকারীও (মাস্টারমাইন্ড) বলা হচ্ছে।
তামিমের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনটির অন্তত পাঁচ সদস্য ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের। এই পাঁচ সন্দেহভাজনের নামের তালিকা ভারত সরকারকে দেয়া হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নুরুল হক মণ্ডল ওরফে নাইমকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারত সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকে সন্দেহভাজন পাঁচ জেএমবি সদস্যের ব্যাপারে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাঁচ সন্দেহভাজনের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরীও রয়েছেন। তাকে গুলশান হামলার হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী এবং আইএসের সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।’
গত মঙ্গলবার রাতভর ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের বিশেষায়িত সোয়াত দলের অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত হয়। কল্যাণপুরের ঘটনায় করা মামলার আসামি জঙ্গি মদদদাতা তামিম চৌধুরী গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলারও অন্যতম পরিকল্পনাকারী।
গত ১ জুলাইন হলি আর্টিজানে ওই জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করা হয়। জিম্মিদের উদ্ধারে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে সেনাবাহিনীর কামান্ডো অভিযানে মারা যায় পাঁচ জঙ্গি।
এই ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে। তবে পুলিশ এই ঘটনার জন্য জেএমবি জঙ্গিদের দায়ী করছে।
