চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ২৪জন নিহতের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন এক সাংবাদিকসহ দুইজন। রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তারা।
এই দুইজন হলেন- চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন এবং সেই ঘটনায় নিহত অজিত সরকারের স্ত্রী শেফালী সরকার।
অঞ্জন সেন আদালতে বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণে কাজ করতেন। ঘটনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরনো ভবনের সামনে একটি নালায় অবস্থান নেন। সেদিন আইনজীবীরা নেত্রীকে কর্ডন করে আদালত ভবনে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদার নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় অফিসে প্রতিবেদন জমা দিয়ে জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে অনেকের লাশ দেখতে পান। এরপর বলুয়ারদিঘী মহাশ্মশানে গিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্যও দেখেন।
আদালতে সাংবাদিক অঞ্জন সেন আরো জানান, সেদিনের ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ করা যায়নি। কারণ অফিসে পুলিশ গিয়ে রিপোর্ট ও ছবিগুলো নিয়ে এসেছিল।
রোববার আদালতে সাক্ষ্য দেন সেদিন নিহত অজিত সরকারের স্ত্রী শেফালী সরকারও।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন জানান, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ। তিন মাস আগে মামলাটি বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর হয়ে এলে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, ড. অনুপম সেনসহ ছয়জনের নামে সমন জারি করে আদালত। এর ধারাবাহিকতায় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম সেন গত ২৬ মে এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আর গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন সাক্ষ্য দেন ২৬ জুন।
