যুবলীগ নেতা মাসুমের এ কী কাণ্ড !

masum chyচট্টগ্রাম : অর্ডার করা দরজা ডেলিভারি দিতে দেরি হওয়ায় এন মোহাম্মদ ডোরস-এর শোরুম ব্যবস্থাপককে পিটিয়েছে যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারীরা। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক অ্যান্ড ডোরস-এর স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাজীর দেউড়ি শাখায় ৮-১০ জন যুবক শোরুমে প্রবেশ করে কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দিনকে মারধর শুরু করে। এতে ব্যবস্থাপক হেলাল শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এসময় শোরুমের মূল্যবান জিনিসপত্রও তছনছ করে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম কয়েকদিন আগে তার বাসার জন্য এন মোহাম্মদদ গ্রুপের নতুন ডিজাইনের একটি দরজার অর্ডার দেন। দরজাটির ডেলিভারি দেয়ার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মাসুম। সোমবার দুপুরের মধ্যেই তিনি ডেলিভারি চান, অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। সোমবার দুইটার পর শোরুম থেকে কাঠমিস্ত্রি গিয়ে তার বাসায় দরজাটি লাগিয়ে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মাসুমের অনুসারীরা শোরুম ব্যবস্থাপক হেলালকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য দিদারুল আলম মাসুমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোনে তিনি একুশেপত্রিকাডটকম’র কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। বলেন, একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা আমাদের কাম্য ছিল না।

নোট : ঘটনার পর পরই শোরুমের আশপাশের লোকজন একুশেপত্রিকাডটকমকে ফোন করে যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদের অনুসারীরা এন মোহাম্মদের শোরুমে সন্ত্রাসী হামলা করার বর্ণনা দিয়ে কেন, কী কারণে এই ঘটনা হয়েছে তাও তুলে ধরেন। পরে ঘটনার সত্যতা জানার জন‌্য অসংখ্যবার ফোন দিয়ে যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদকে পাওয়া যায়নি। বরং ফরিদ মাহমুদের অফিস থেকে ফিরতি ফোনে মাসুম নামে তার এক স্টাফ লেনদেনের প্রসঙ্গ তুলায় পুরো বিষয়টি নিয়ে সংশয়-সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

সঙ্গতকারণেই ধরে নেয়া হয় যে, ঘটনা আড়াল করার জন্য লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় একুশেপত্রিকাডটকম-এ এ সংক্রান্ত নিউজটি আপলোড হবার পরই এন মোহাম্মদ গ্রুপের পক্ষ থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদের অনুসারীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। মূলত যার অনুসারিরা ঘটনা ঘটিয়েছে সেই দিদারুল আলম মাসুম পরবর্তীতে তাদের শোরুমে গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন বলেও জানানো হয় এন মোহাম্মদ গ্রুপের পক্ষ থেকে। সংবাদে অনিচ্ছাকৃত নামবিভ্রাটের জন্য আমরাও দুঃখিত।