.আলম দিদার : শেখ ইজাবুর রহমান। উপলদ্ধি নামক একটি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিসিয়াল প্রয়োজনে কোতোয়ালী থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন। দুজনেই কুশল বিনিময়ের পর ওসি মোহাম্মদ মহসীন ইজাবুর রহমানকে নিজ হাতে তুলে দিলেন তার টেবিলে রাখা চকলেট! তার সঙ্গে থাকা আরেক উন্নয়নকর্মী শেলী রক্ষিতের হাতেও তুলে দিলেন চকলেট! আর এই চকলেট পেয়েই বিস্মিত এ উন্নয়নকর্মী।
এরই মাঝে এক বৃদ্ধ দর্শনার্থী ও দাওয়াপত্র নিয়ে আসা এক যুবকের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর ওসি মহসীন তাদেরও অফার করলেন চকলেট। এভাবেই সিএমপির প্রতিটি থানা, ফাাঁড়ি ও ইউনিটে বৃহস্পতিবার থেকে সেবাপ্রার্থী দর্শনার্থীদের চকলেট দিয়েই সেবা পর্ব শুরু করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ওসি থেকে কমিশনার পর্যন্ত প্রত্যেক কর্মকর্তার টেবিলেই রাখা আছে চকলেটের সুদৃশ্য জার। সেখানে রাখা বিভিন্ন ধরণের চকলেট দিয়েই শুরু হচ্ছে সেবাপ্রার্থী নাগরিকে সঙ্গে আলাপচারিতা।
সাধারণত পুলিশের প্রতি জনগণের এক ধরণের দূরত্ব ও ভীতি কাজ করে। জনগণ নেহাত প্রয়োজন ছাড়া পুলিশের কাছে যেতে চায়না। এরমধ্যে যারা যান তারাও অনেক ভীতি নিয়ে কথা বলেন পুলিশের সঙ্গে। তবে উন্নত বিশ্বে জনগণ কোনো বিপদে পড়লে প্রথমে পুলিশকেই বন্ধু হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের কাছে ছুটে যান। বাংলাদেশে পুলিশের সঙ্গে মানুষের যে দূরত্বপূর্ণ সর্ম্পক সেটি উন্নত বিশ্বে ঠিক বিপরীত। তাই বাংলাদেশে এই প্রথম পুলিশও জনগণের মাঝে দূরত্ব কমাতে চকলেট দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়টি চালু করেছেন সিএমপির নতুন কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান। তার দাবি, এই প্রথার মাধ্যমে কমে আসবে পুলিশ ও জনগণের দূরত্ব।
সেবা নিতে আসা উন্নয়ন কর্মী শেখ ইজাবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতে চকলেট দিয়ে অ্যাপায়নের বিষয়টি আমি জার্মানে দেখেছি। এছাড়া উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরণের প্রথা চালু আছে। ফলে তাদের পুলিশিংটা শতভাগ জনবান্ধব হয়। আশা করি বাংলাদেশেও এই ধরণের উদ্যোগ থেকে শতভাগ জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত হবে। ’
জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশের কাছে কেউ আসলে তারা সাধারণত অনেক ভীতি নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে একধরণের দূরত্ব বজায় থাকার প্রবণতা থাকে। তাই সাক্ষাতের শুরুতেই যখন পুলিশ সাক্ষাত প্রার্থীকে একটা চকলেট অফার করবেন তখন তাদের মধ্যে সেই ভীতিটা অনেকটা দূর হবে। দূরত্বটা কেটে যাবে। তারা আন্তরিকভাবে কথা বলতে সাহস পাবে। মূলত পুলিশ কর্মকর্তা ও সেবাপ্রার্থী জনগণের মাঝে প্রথম সাক্ষাতেই একটি সেতুবন্ধন তৈরির জন্য চকলট দিয়ে আপ্যায়ন প্রথাটি চালু করেছি। ’ এটি সিএমপির প্রত্যেক থানা ফাঁড়ি থেকে শুরু করে ওসি থেকে কমিশনার পর্যন্ত পালন করছেন বলে জানান পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান।
এর কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে সিএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, ‘চকলেট, হোক সেটি সামান্য জিনিস। কিন্তু থানা পুলিশ সেবার বিনিময়ে যে টাকা পয়সা নেয় বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। সেটির বিপরীতে একজন সেবা প্রার্থী যখন দেখবেন, প্রথম সাক্ষাতেই একজন ওসি তাকে চকলেট অফার করে বসলেন। তাতে করে তার নেগেটিভ ধারণা যেমন বদলাবে। তাৎক্ষণিক এই সামান্য একটি চকলেট পুলিশ ও জনগণের মাঝে দূরত্ব ও ভীতিময় সর্ম্পকের ইতি ঘটাবে। এটার কারণে তারা আরো কাছাকাছি যাবার সুযোগ পাবে একটি মনাস্তাত্বিক সেতু বন্ধন তৈরি হবে। ’
সিএমপির মুখপাত্র এডিসি অলক বিশ্বাস বলেন, ‘কমিশনার স্যারের নির্দেশে ইতোমধ্যে সুদৃশ্য কাঁচের জার প্রত্যেক থানা ফাঁড়ি ও ওসি থেকে শুরু করে সব সিনিয়র কর্মকর্তাদের টেবিলে সরবরাহ করা হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে। যার যে পরিমাণ চকলেটের প্রয়োজন হবে সিএমপির পক্ষ থেকে তা সরবরাহ করা হবে। ’
কোতোয়ালীর ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার অফিসে আজকে যারা এসেছেন তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর পরই প্রত্যেককে আমি চকলেট অফার করেছি। অনেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। এতে করে আমাদের সঙ্গে জনগণের আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্কটা তৈরি হচ্ছে। প্রথম সাক্ষাতেই তাদের মন থেকে পুলিশ ভীতিটা দূর হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য তাদের সব কথায় মন খুলে বলার কারণে আমরাও তাদের আরো কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। কমিশনার স্যারের ব্যাতিক্রমী এই উদ্যোগ পুলিশ-জনগণের মাঝে অন্য রকম একটা সেতু বন্ধন তৈরি করবে। ’
একুশে/এডি
