চট্টগ্রাম : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘কয়লা দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তার দায় সরকার নেবেনা। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে এর দায় নিতে হবে।’
রোববার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড এর যমুনা টার্মিনাল অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এটা একদিক থেকে ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই দুর্নীতি ধরা পড়েছে। গত ১৩ বছর ধরে এটা হয়ে আসছে। আমরা বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ইন্সপেকশনে পাঠিয়েছিলাম বলেই এই ধরণের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। এটাতে সরকার কোনো চাপে পড়েনি। বরং যারা দুর্নীতি করেছে তারাই চাপে পড়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যে তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, আমরা শুধু সেটার উপর নির্ভর করছি না। গত ১৩ বছরের হিসেব টেনে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি হয়েছে। এই সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সবাইকে বের করা হবে। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান এখানে আছে। যারা অডিট করলো তারা কি করলো। আমরা চাচ্ছি, এটা একটা উদাহরণ হওয়া উচিত। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বুঝা উচিত কেউ দুর্নীতি করে পার পাবেনা।’
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিল্পের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরী করেছে। ফলে বাহিরের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। কেউ যদি এই আস্থার পরিবেশ নষ্ট করতে চায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানিগুলো প্রতিবছর প্রচুর লোকসান দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তেল সরবরাহ ও পরিবহণ ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসুন।’ এ সময় তিনি সিস্টেম লস কমানোর জন্য জাহাজ থেকে রিফাইনারি পর্যন্ত তেল নিয়ে আসতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মৌরিং (একধরণের পাইপলাইন) সিস্টেম চালু করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, ‘এতে দুর্নীতি শূণ্যের কোটায় নেমে আসবে।’
বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ডিরেক্টর (মার্কেটিং) মো. সরওয়ার আলমে^র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিপিসির ডিরেক্টর (ফাইনেন্স) আলতাফ হোসাইন চৌধুরী, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল হাসান বক্তব্য রাখেন। পরে প্রতিমন্ত্রী যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড এর যমুনা টার্মিনাল অফিস ভবনের উদ্বোধন করেন।
