চট্টগ্রাম : ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করবেন। কিন্তু তার আগেই ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে গ্রেনেড হামলা করে আতঙ্ক ছড়ানো হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও পুরো ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর আগমন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। আমরা ভেবেছিলাম জাসদ ছাত্রলীগই এ হামলা চালিয়েছে। যে ভাবেই হোক বঙ্গবন্ধুকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে হবে। এ জন্য দরকার নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। নিরাপত্তার চাদরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ঢেকে ফেলতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। আমরা কেউ ঘুনাক্ষরে বুঝতে পারিনি এই হামলাটি ডিজিএফআই করেছে ষড়যন্ত্রকারীদের মিশন বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে। দুপুরে এই হামলার পর ডিজিএফআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন।
বলেন, স্যার ট্যাংক বের করার অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করুন। রাস্তায় ট্যাঙ্ক বের করলে বিপ্লবীরা পালিয়ে যাবে। সরল বিশ্বাসে বঙ্গবন্ধু ট্যাংক বের করার অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। বঙ্গবন্ধুর অনুমতিতে বের করা সেই ট্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।
একুশে পত্রিকার সঙ্গে ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন ৭৩-৭৫ এ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ফজলুর রহমান মোল্লা। ১৫ আগস্টের টানে গেল সপ্তাহে তিনি আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে ঢাকায় আসেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম, শেখ কামাল, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মাহবুব ভাই, ইসমত কাদির গামা, ওবায়দুল কাদের, রবিউল আলম মুকতাদির চৌধুরীসহ আমরা প্রায় ২৫ জন ছাত্রনেতা একত্রিত হয়েছিলাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্টের সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে আরো নিরাপত্তা দেয়া যায় সে পরিকল্পনা করি। বঙ্গবন্ধু-তনয় শেখ কামাল আমার চেয়ে দুই বছরের বড় হলেও সর্ম্পকটা ছিল বন্ধুর মত, ভাইয়ের মত।
পরিকল্পনাশেষে ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ শহীদুল ইসলামকে রাত ২টায় তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসি। একই সময়ে শেখ কামালও নিজের কার ড্রাইভ করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে আমি সূর্যসেন হলে আমার ৪৭৫ নম্বর রুমে ফিরে এলাম। ভোররাতে আজানের শব্দ শোনার সাথে সাথে পাশের বন্ধুরা আমরা দরজায় জোরে জোরে আঘাত করছিল। দরজা খুলে শুনি সেই জল্লাদবাহিনী ডালিম গং আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। তড়িঘড়ি প্যান্টটা পরে আমি কাঁটাবন দিয়ে আবার সেন্ট্রাল রোডের দিকে শেখ শহীদের বাসায় যাই। ততক্ষণে শেখ শহীদ আত্মগোপন করেছেন। এসময় আমার সাথে ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিউল্লাহ সিকদার ও আরেকজন ছাত্রনেতা (বর্তমানে কানাডা প্রবাসী) রায়হান উদ্দিনের দেখা।
আমরা তিনজন একসাথে বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের বাসায় গেলাম। তাজউদ্দিন ভাই বেলকনিতে পায়চারি করছিলেন, বলছিলেন এরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, আমাদেরও রেহায় দিবে না। এর কিছুক্ষণের মধ্যে খুনিরা তাজউদ্দিনের বাসা ঘিরে ফেললো। তারা তাজউদ্দিনকে প্রস্তাব দিল, খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট, আর তাজউদ্দিন যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশপরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাজউদ্দিন আহমেদ তাদের তিরস্কার করলেন। বললেন, তোমরা জান না কার সামনে কথা বলছো। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমি তাজউদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হবো না। এটা কখনো সম্ভব নয়। অন্য কথা থাকলে বলো। তোমরা কি এখনই আমাকে গ্রেপ্তার করবা-জানতে চান তাজউদ্দিন। তারা বাইরে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর আবার এসে তাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো।
সেদিনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। বলেন, বড়ই হতভাগা আমরা। ইতিহাসে এত বড় ঘটনা ঘটে গেলো, আমরা কারো আহ্বান বা দিকনির্দেশনা পাইনি। আমাদের যারা সিনিয়র নেতা বিশেষ করে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক ভাই, তোফায়েল ভাই- আশা করেছিলাম তারা আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করবেন। আমরা ছাত্রলীগের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে যাদেরকে চিনতাম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলাম কীভাবে আন্দোলন করা যায়, কীভাবে এর সমুচিত জবাব দেওয়া যায়। কিন্তু কেউ আমাদের আহ্বানে সাড়া দেননি।
তাই নিজেই, নিজের অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন, মিটিং-মিছিলের চেষ্টা করি। বিষয়টি বুঝতে পেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে আমাকে গ্রেফতার করতে আসে বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইলাভেন রেজিমেন্ট। আমাকে না পেয়ে আমার এক বন্ধু অ্যাডভোকেট কাশেমকে তারা নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমি গা ঢাকা দিই। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ভারত চলে গেলেন। সিদ্ধান্ত নিলাম আমিও সেখান চলে যাবো। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যেভাবে লড়েছিলাম মনে মনে সে অঙ্গীকার পোষে আমি ঢাকা থেকে বাসে করে জয়দুপুর চৌরাস্তায় আসলাম। সেখান থেকে একটা লোকাল বাস ধরে কাপাসিয়া-বেলাবো হয়ে আগরতলায় চলে যাবার পরিকল্পনা। কিন্তু সদ্য ক্ষমতাদখলকারী সরকারের ইন্টিলিজেন্স আমাকে কীভাবে অনুসরণ করলো জানি না।
বর্তমান ন্যাশনাল পার্কের (বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্ক গাজীপুর) সামনে যখন বাসটা থামলো, ইলাভেন রেজিমেন্টের দুইটা জিপ বাসটাকে থামালো এবং হ্যান্ডমাইকে বললো, এই বাসে ফজলুল রহমান আছেন। আপনি বেরিয়ে আসুন। বাসে যাত্রীদের অনেকেই আমাকে চিনতেন, তাদের কেউ কেউ কাপাসিয়া এলাকার। তারা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। তারা আমাকে ধরে নিয়ে গেল (২৫ আগস্ট) এবং টানা ১৫ দিন আর্মির তত্ত্বাবধানে আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালালো। আমি তাদের বোঝাতে চেষ্টা করি, আমি শ্রেফ রাজনীতি করি। রাজনীতি করা তো দোষের কিছু নয়। আর্মি অফিসারদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি, আপনাদের বাবা-মা তো ‘৭০ এর নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা সেই দল করি। আমার লাইন্সেস, পারমিট কিছুই নেই। কোনো দুর্নীতিতে যুক্ত হইনি। ইচ্ছা হলে আপনারা তদন্ত করুন আমার নামে কিংবা আমার আত্মীয়স্বজনের নামে কোনো সম্পদ আছে কিনা। আমার ব্যাংক একাউন্ট দেখুন, ব্যালেন্স দেখুন।
আর্মি অফিসারা বার বার বলছিলেন, শেখ কামাল তোমার বন্ধু ছিল, তোমার কাছে কয়েক ট্রাক অস্ত্র দিয়ে গেছে। আমি বললাম, শেখ কামাল একজন মুক্তিযোদ্ধা তার আত্মরক্ষার জন্য লাইন্সেস করা বন্ধুক, আমার কাছেও যেরকম আপনারা পেয়েছেন লাইন্সেস করা বন্ধুক। অস্ত্রের তো প্রশ্ন উঠে না। আমরা মিটিং-মিছিল করেছি, সভা করেছি, সমিতি করেছি, জনমত তৈরি করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা কাজ করেছি। তারা কিছু পেপার কাটিং দেখিয়ে আমাকে কাবু করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি। রাব্বুল আলামীন আমার সহায়ক হবেন। আমাকে রাখা হয়েছিল বর্তমান গাজীপুরের জেলা হেডকোয়ার্টার, সেখানে ছিল ইলাভেন রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টার। তখন জেলা হেডকোয়ার্টার গড়ে উঠেনি। সেখানে ট্রাকে করে এসে দলমত নির্বিশেষে এলাকাবাসী আমার মুক্তির জন্য দাবি জানাতে থাকে। একজন ব্রিগেডিয়ার ছিলেন যিনি পরিচয় ও আত্মীয়তার সুবাদে আগে থেকে আমাকে ভালো জানতেন। তিনি আমাকে স্ট্রংলি রিকমেন্ড করেছিলেন সৎ ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। আমাকে কেন আটক করা হয়েছে তাও তিনি জানতে চান।
একটানা ১৫ দিন নির্যাতন শেষে তারা আমাকে জয়দুপুর থানায় হস্তান্তর করে। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জামেল ভাই আমাকে থানায় দেখতে যান এবং সান্ত্বনা দেন। তখন তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তারা যেন জয়দুপুর সদরের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।
সিভিল কোর্টে প্রেরণের পর আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এইচডিও সাহেব মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেন।- বলেন ফজলুর রহমান মোল্লা।
১৯৫২ সালের ১৫ অক্টোবর, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উত্তর খেমের গ্রামে ফজলুর রহমান মোল্লার জন্ম। বাবা আবদুল মজিদ মোল্লা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৩০ বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কাপাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করে ঢাকায় কবি নজরুল কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন ফজলুর। সেখানে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নির্বাচিত হন কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভূমিকা রাখেন। এরপর যোগ দেন ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধ করেন ৪ নম্বর সেক্টরের অধীনে। ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার। এরপর ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র থাকাবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছিলেন দপ্তর সম্পাদক। ১৯৭৫ সালেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে একই পদে নির্বাচিত হন। এসময় বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ কামালের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ, ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ক গড়ে উঠে ফজলুর রহমানের। একে তো ছাত্রনেতা তদপুরি শেখ কামালের বন্ধু-সবমিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর অপত্য স্নেহ পেয়েছেন ফজলুর। দেখা হলে বঙ্গবন্ধু চুল টেনে, কান মলে তাকে আদর করতেন।
১৫ আগস্ট রাত ২টায়ও শেখ কামালকে পৌঁছে দেয়ার সুবাদে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কয়েকঘণ্টা যেতে না যেতেই শুনতে পান বঙ্গবন্ধু আর নেই। সপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বন্ধু কামালকেও হারান চিরদিনের জন্য।
কারো কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে একাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ শুরু করেন। ফলশ্রুতিতে আর্মির হাতে গ্রেফতার হয়ে টানা ১৫ দিন নির্যাতন সইতে হয় তাকে। সেই নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন, যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান বছরের পর বছর।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে তাকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তার কাছে পাঠানো হয় তৎকালীন যুবমন্ত্রী আবুল কাশেমকে। তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে তার সামনে হাজির হয় জীবননাশের হুমকি। তখন তিনি মোটর সাইকেল চালাতেন। বলা হয় তুমি মোটর সাইকেল চালাও, যে কোনো সময় তোমার মোটর সাইকেল ট্রাকের নিচেও পড়তে পারে!
সিনিয়রদের কাছে এ কথা বলার পর তারা বললেন, এটা তোমার জীবনের থ্রেট। যে কোনো সময় তোমাকে মেরে ফেলতে পারে। তোমার কাছে পাসপোর্ট থাকলে দ্রুত সম্ভব তুমি বিদেশ চলে যাও। ফজলুর রহমান বলেন, আমার আগে থেকেই ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট ছিল। জার্মানি যাওয়ার জন্য তখন এত বেশি ভিসাজটিলতা ছিল না। তাই জার্মানিই চলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে টানা ৯ মাস আর্মিদের নির্যাতনে বিধ্বস্ত শরীরের চিকিৎসা করি। জার্মানিতে আমেরিকান দূতাবাসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে হাত করি, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলি। বলি, তোমার দেশে যাবার আমার বড় সখ, বড় স্বপ্ন। শুনে তিনি আমাকে আমেরিকা যাবার সুযোগ করে দেন।
জার্মানিতে ৯ মাস কাটিয়ে ১৯৮২ সালে আমেরিকা পাড়ি জমাই। সেখানে গিয়ে জনমত গঠন করি, আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করি। ১৯৮৭ সালে নিউইয়র্কে আমার বাসায় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। আমি সেই কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হই। এখনো সেই দায়িত্বে আছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা যখনই আমেরিকা গেছেন দেখা করি, সঙ্গ দিই। লোকজনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করি।
ফজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাকে দেশে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। বিদেশের মাটিতে তিল তিল করে গড়ে তোলা বঙ্গবন্ধুপ্রেমীদের জগত ছেড়ে আমি আসতে অপারগতা জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, সবাই দেশের রাজনীতি, ক্ষমতার অংশীদার হলে বিদেশের অবস্থান, সংগঠনের হাল কে ধরবে। তাছাড়া আক্ষরিক ক্ষমতা, অবস্থানের চেয়ে আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হয়ে থাকাটা আমার জন্য অনেক বেশি গৌরবের বলে মনে করি।
ফ্লোরিডায় অবস্থানরত ফজলুর রহমান মোল্লা বর্তমানে আমেরিকার নাগরিক। সেখানে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। জিয়াউর রহমানের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য ১৯৮১ সালে জার্মানে পাড়ি দেয়ার সময় ১৭ দিন বয়সী যে সন্তান রেখে গিয়েছিলেন সেই শাহরিয়ার রহমান বর্তমানে আমেরিকান এয়ারফোর্সের ক্যাপ্টেন। মেয়ে ফারহানা রহমান আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। স্ত্রী সালমা রহমান আবৃত্তি শিল্পী, সাহিত্যকর্মী।
ফজলুর রহমান মোল্লা বলেন, আজ আমার দল ক্ষমতায়। বঙ্গবন্ধুতনয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা বিদেশের মাটিতে বসে কাজ করে যাচ্ছি। সামনে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা যেন আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারেন সেজন্য বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সকল সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।
একুশে/এটি
