প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার, টিআই কাশেমের বিরুদ্ধে আদালতের সমন

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ারের দায়ে সিএমপির বন্দর জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক-টিআই (প্রশাসন) আবুল কাশেম চৌধুরীর (৫২) বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

নগরের গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড যুবলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক শেখ আহম্মদের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে রোববার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিমের আমলী আদালত (৫) এর বিচারক আল ইমরান খান এই সমন জারি করেন।

মামলাটির ফাইলিং লইয়ার ছিলেন অ্যাডভোকেট সুরজিত রাহা দাশু। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত ও ওবায়দুল হক সমীর।

অ্যাডভোকেট সুরজিত রাহা দাশু বলেন, গত ৪ আগস্ট একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্র ধরে যুবলীগ নেতা শেখ আহম্মদ মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি ট্রাফিক পরিদর্শক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০০, ৫০১ ও ৫০৫(ঘ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন।

মামলার বাদি যুবলীগ নেতা শেখ আহম্মদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, গত ৪ আগস্ট (২০১৮) একুশে পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত ‘প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ঘৃণ্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরও বহাল টিআই কাশেম’ শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদটি বিস্তারিত পড়তে গিয়ে দেখতে পাই ২০১২ সালের ৫ জুলাই জনৈক হাবিব বিন ইসলাম তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন ‘হাসিনা পুত্রবধূ ইয়াহুদী, বোনের পুত্রবধূ খ্রিস্টান, আসল দাদা-দাদী ছিল হিন্দু, মেয়ের শ্বশুর গোষ্ঠী রাজাকার, দলের সেক্রেটারী জেনারেলের বউ খ্রিস্টান, ধর্মনিরপেক্ষতায় অপূর্ব সমন্বয়।’ এরপর আমি টিআই আবুল কাশেম চৌধুরীর আইডিতে ঢুকে তার শেয়ারকৃত স্ট্যাটাসটি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত মর্মামহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।

মামলার বাদি শেখ আহম্মদ বলেন, ‘স্ট্যাটাসটি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টিকর এবং জাতির জন্য চরম অবমাননাকর। আসামি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়েও দেশের একজন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম মানহানিকর উক্তি শেয়ার করে বিভিন্ন লোক ও সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার উসকানি ও শত্রুতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন। যা কেবল প্রধানমন্ত্রী কিংবা তাঁর পরিবারের জন্য নয়, আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের জন্যও চরম মানহানিকর।’

একুশে/এটি