চট্টগ্রাম: একটা ষাঁড় আরেকটাকে শিং দিয়ে গুঁতো দিচ্ছে। হঠাৎ একটা ষাঁড় লড়াই ছেড়ে ভোঁ–দৌড় দিল। লোকজন সব ছিটকে সরে যাচ্ছে। আবার সেই ষাঁড়টা ফিরে এসেছে লড়াইয়ের মাঠে। ধুন্ধুমার লড়াই চলছে। লড়াই জমে উঠতে না–উঠতে আবার হইহই।
-এভাবেই চলছিল ষাঁড়ের লড়াই। ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ বহুতল কলোনীর মাঠে মঙ্গলবার বিকেলে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ।
বিকেল ৩টার দিকে লড়াই শুরু হয়। অন্তত পাঁচ জোড়া ষাঁড় এতে অংশ নেয়। ষাঁড়ের লড়াই উপভোগ করেন দর্শকরা। হৈ-হুল্লোড়ও করছিলেন অনেকেই। প্রতিবারই যখন দুটি ষাঁড় লড়াইয়ে মেতে উঠে তখনই চিৎকারে মাঠের চারপাশ মুখর হয়ে উঠে। আবার যখন কোন ষাঁড় দৌড়ে পালিয়ে যেতে চায় তখনও শুরু হয় হট্টগোল ও দর্শনার্থীদের দৌঁড়।
ষাঁড়ের লড়াই দেখে অনেক আনন্দ পান বলে জানান আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম।
লড়াইয়ের একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনটি গাড়ি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তখন কয়েক হাজার মানুষ সেখানে ছিলেন; যারা লড়াই দেখতে গিয়েছিলেন।
এ সময় বাঁশি বাজিয়ে পুলিশ সদস্যরা হঠাৎ করে লাটিচার্জ শুরু করে এবং হাজারো মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ সময় শাহনেওয়াজ নামের একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারকে আটক করা হয়; তাকে পুলিশ সদস্যরা বেদম মারধর করেছেন বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ফটোসাংবাদিক জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, যে কোন বড় আয়োজন বা জনসমাগম ঘটাতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে অনুমতি নিতে হয়। ষাঁড়ের লড়াই আয়োজনের জন্য কোন ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান পরিদর্শক জহির হোসেন।
প্রসঙ্গত সারাদেশে ষাঁড়, ছাগল ও মোরগের মতো প্রাণী দিয়ে লড়াই বন্ধে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর রুল জারি করে হাই কোর্ট।
প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, একটি ষাঁড় দিয়ে আরেকটি ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াই বাঁধানোর এই প্রক্রিয়াটি নিষ্ঠুর। এ ধরনের খেলায় নিরীহ প্রাণীদের অংশ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। এ ধরনের খেলা বিভিন্ন দেশে বন্ধ হয়ে গেছে।

ছবি- আকমাল হোসেন
