তিন মিলিয়ন মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হবে দেশে

Screenshot_17চট্টগ্রাম: ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হলে দেশে অতিরিক্ত তিন মিলিয়ন মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এমপি। রবিবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারীর কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের জ্বালানি সেক্টরে আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য শীঘ্রই ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে প্রকল্পটির কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এটি উৎপাদনে যাবে। এ প্রকল্প চালু হলে দেশে অতিরিক্ত তিন মিলিয়ন মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হবে। একই সাথে প্রায় ৫০ বছরের পুরানো দেশের প্রধান তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারীর পুরানো যন্ত্রাংশ বাদ দিয়ে আধুনিক যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হবে। যাতে এ রিফাইনারীও উৎপাদনে সক্রিয় থাকে।

তাজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সেটা তদারক করার জন্য সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির অন্যতম কাজ মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখা। এরই অংশ হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারীতে নেয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আমরা এসেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যা বঙ্গবন্ধু দেখিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য বহুমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার সুফল জাতি পাচ্ছে। আমরা স্বপ্ন দেখি, প্রত্যাশা করি, অনেক বড় ধরনের সুফলের। সেজন্য আমাদেরকে সকল খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিন্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টার্ন রিফাইনারী যে সময় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, আজকের সময়ের সাথে তুলনা করলে বর্তমানের যন্ত্রপাতিগুলো সনাতনি। পরিবেশবাদিদের আমি একটা বিষয় তুলে ধরে আসছি যে, আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারী এখন যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করে, তার মধ্যে প্রায় দুই হাজার পিপিএম সালফার থাকে। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে একশ পিপিএমের উপরে অ্যালাউ করতে চাচ্ছে না।

জ্বালানি তেলের মধ্যে ২৫ ভাগ দেশে উৎপাদন হয় আর ৭৫ ভাগ বিদেশ থেকে আমদানি হয় উলে¬খ করে তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারী ইউনিট টু নামের নতুন আরেকটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সনাতনি যন্ত্রপাতি দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারীকে পরিচালনা করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন কওে এটিকে আধুনিকায়ন করা হবে। সমুদ্র পথে বড় জাহাজে করে তেল আনার পর সেটাকে ইস্টার্ন রিফাইনারীতে নিয়ে আসার জন্য অনেকগুলো লাইটারেজ ব্যবহার করতে হয়। এতে হ্যান্ডলিং সময় ও খরচ অনেক বেশী হয় যায়। পণ্য নষ্ট হয়। এই ক্ষতিটা কমানোর জন্য সরাসরি গভীর সমুদ্র থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল ইস্টার্ন রিফাইনারীতে নিয়ে আসার জন্য ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাস হলে প্রতিটি জাহাজে আমরা কয়েক লক্ষ ডলার খরচ কমাতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে এসব প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্প বিষয়ে আমরা সংসদীয় কমিটি যাতে অবহিত হতে পারি, জনগণের স্বার্থ সঠিকভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে, জ্বালানি নিশ্চয়তার যে স্বপ্ন ও উদ্দেশ্যে সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে- এসব পরিদর্শনের জন্য আমাদের আসা।

তেল সেক্টরে দুর্নীতি অনিয়ম সর্ম্পকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল সেক্টরে কোন প্রকার দুর্নীতি অনিয়ম সর্ম্পকে সংসদীয় কমিটি সব সময় সোচ্চার রয়েছে। কেউ দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে বা কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্ন্তজাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার বিপুল ভতুর্কি দিয়ে বছরের পর বছর জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে। সরকারের বিপুল লোকসান হলেও জনগনের কথা চিন্তা কওে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেয়া হয়। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুফল নাও আসতে পারে। জ্বালানি তেলের টাকা দিয়ে এ সেক্টরের উন্নয়ন করা হচ্ছে।

তেল সেক্টরে কোন প্রকার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটি সব সময় সোচ্চার উলে¬খ করে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল সেক্টরে কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম এ লতিফ বলেন, জ্বালানি খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন। ৫০ বছরের পুরনো ইস্টার্ন রিফাইনারী আধুনিকায়নের উদ্যোগ বিগত সরকারগুলো নেয়নি। নতুন কোন প্রকল্প নিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন না করায় দেশে আসা নতুন গাড়িগুলোতে এই রিফাইনারীর পণ্যগুলো ব্যবহার করতে অসুবিধা হচ্ছে। এখন ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্টার্ন রিফাইনারী টু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে সংসদীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ইর্স্টান রিফাইনারীর বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।