
ঢাকা : আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তার আগে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে আবার মাঠে নামার পরিকল্পনাও দলটির রয়েছে।
টানা দুইবার রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা এই দলটির জন্য আগামী কয়েকটি মাস হতে পারে বাঁচা-মরার লড়াই। এই লড়াইয়ে নামার আগে দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের সব পর্যায়ের নেতাদের দলে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
ইতিমধ্যে যেসব নেতাদের দলে ফেরানো হবে তাদের খসড়া তালিকা তৈরি করছেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
জানা গেছে. আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সম্ভাব্য আন্দোলনকে সামনে রেখে সুখবর পেতে যাচ্ছেন বিএনপির মূল স্রোতের বাইরে থাকা নেতারা।
তবে এই প্রক্রিয়া শেষে নানা কারণে দলের নিষ্ক্রিয় ও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বের চেষ্টা কাজ করা সংস্কারবাদী বলে পরিচিত নেতাদের সক্রিয় করে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।
বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নির্দেশে এই কাজ শুরু হয়েছে। দলে ফেরানো নেতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে সেটা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে। পরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হবে কাদের দলে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে যাদের বড় ধরনের কোনো ‘অপরাধ’ নেই, দলের নেতৃত্বকে বিশ্বাস করেন এবং অন্য কোনো দলেও যাননি, তাদের বিএনপিতে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শতাধিক নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে যাদের নাম তালিকায় উঠেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: পাবনা জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টু, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক নেতা হযরত আলী, নাটোর জেলার সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ডিউক, নাটোর জেলার সাবেক নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, আব্দুল মান্নান, খন্দকার জোবায়ের, ভোলা জেলার সাবেক সদস্য আক্তারুজ্জামান টিটু, বরগুনার তালতলী উপজেলার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন, টাঙ্গাইল জেলার সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল রশিদ চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া জেলার সাবেক সদস্য আলতাব হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলার সাবেক সহ-সভাপতি মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক সভাপতি রফিকুর রহমান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সাবেক সহসভাপতি আজগর আলী এবং চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দলের অনেক নেতা তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে আবেদন করেছেন। দলের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।’
