ফেলপসের অজানা গল্প

Michael Phelpsঢাকা: চার বছর আগে লন্ডন অলিম্পিকে বিদায় বললেও দুনিয়া তাকে মনে রাখতো কিংবদন্তি হিসেবে। এই ৩১ বছর বয়সে রিওতে ফিরেও মাইকেল ফেলপস জলের রাজা। সাঁতারের দুনিয়ায় একক আধিপত্য তার। এমন একজন অ্যাথলেটকে নিয়ে ক্রীড়া দুনিয়ার আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাকে নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি হয় পৃথিবীর নামীদামী সংবাদ মাধ্যমে। তার ভিড়ে ফেলপসের কোনো গল্প হয়তো অজানা থাকতে পারে আপনার। তেমনই কিছু তথ্য নিয়ে এই আয়োজন।

ফেলপস তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোটো। মা হাইস্কুলের শিক্ষিকা। বাবা পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। ওয়াশিংটন রেডকিংনসের হয়ে তার বেশ নামডাক ছিল। পুঁচকে ফেলপসকে নিয়ে মা-বাবা ভীষণ বেকায়দায় থাকতেন। একদম লেখাপড়া করতে চাইতেন না। চঞ্চল ‘নাম্বার ওয়ান’ ছিলেন। ফেলপসের চঞ্চলতা মা-বাবাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে লেখাপড়া নিয়ে তার অমনোযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এক পর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে যান তারা। ধরা পড়ে মানসিক সমস্যার কথা। ডাক্তার বিশেষ ধরনের ওষুধ লিখে দেন।

ডাক্তার দেখানোর পর ধীরে ধীরে লেখাপড়ায় মন ফেরে ফেলপসের। ১২ বছর পর্যন্ত একটানা ওষুধ খেতে হয় তাকে। ‘সুস্থ’ হলে সাঁতারে নামেন।

ফেলপসের বর্তমান উচ্চতা ৬ ফিট চার ইঞ্চি। আমেরিকার ইতিহাসে তিনি সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু।

রিও অলিম্পিকে এখন পর্যন্ত (১০ আগস্ট) তিনটি সোনা জিতেছেন। এই নিয়ে অলিম্পিকে তার সোনার সংখ্যা দাঁড়ালো ২১টি। অলিম্পিকের ইতিহাসে এত স্বর্ণপদক আর কারো নেই।

ফেলপসকে তার সমর্থকরা একজন পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবেই চেনেন। কোনো ভুল করলে নিজের দোষ স্বীকার করতে কুণ্ঠা বোধ করেন না।

২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার এক পার্টিতে ধূমপানরত অবস্থায় ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের ক্যামেরায় ধরা পড়েন। পরদিন সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। দোষ করে ক্ষমা চাওয়ার নজির পৃথিবীতে ভুরিভুরি। কিন্তু ফেলপস সেদিন যা বলেছিলেন তা তার ব্যতিক্রম চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ, ‘আমার বয়স কেবল ২৩। ধূমপানের ছবি তুলে আমি নাবালকের মতো আচরণ করেছি। আমার কাছে মানুষ এসব আশা করে না।’

‘আমি দুঃখিত। আমার সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে কথা দিচ্ছি-দ্বিতীয়বার এই কাণ্ড ঘটবে না।’

ফেলপস কখনো ড্রাগ টেস্টে দোষী প্রমাণিত হননি। তবে নিজ দেশে যুক্তরাষ্ট্রে একবার তিনমাস নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ফেডারেশনকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।

বলা হয়ে থাকে, শারীরিক ভিন্নতার কারণে ফেলপসের সঙ্গে অন্য কেউ সাঁতার কেটে পারেন না। সাঁতরানোর সময় তিনি যেভাবে স্ট্যান্স নেন, তাতে তার শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ইঞ্চি লম্বা মনে হয়! ফেলপসের পায়ের হাড়ে নাকি কিছু ভিন্নতা আছে। যার কারণে তার গতি কিছু বেশি হয়।

নিন্দুকরা অবশ্য এসব বলে ফেলপসের কৃতিত্বকে এতটুকু খাটো করতে পারবেন না। কারণ তিনি যতটা অনুশীলন করেন, অনেক দেশের পেশাদার সাঁতারু তা কল্পনা করতেও ‘ভয়’ পাবেন।

পুলে নামার আগে চূড়ান্ত অনুশীলনেই এক সপ্তায় কমপক্ষে ৮০ হাজার মিটার সাঁতরান। মাইলের হিসাবে যেটি ৫০ মাইল। সপ্তায় ছয়দিন ৫/৬ ঘণ্টা করে নিয়মিত অনুশীলন করেন। ওই দিনগুলোতে বিশেষ একটি ‘চেম্বারে’ ঘুম পড়েন। এই ছয়দিনের তিনদিন আবার ওজন নিয়ন্ত্রণের অনুশীলনও করেন।