চবির রহস্যজনক ভবন : মধ্যরাতে নারীর দেখা, ভেসে আসে সুর

ইফতেখার সৈকত : বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দ্দী হলের মোড় হয়ে সেন্ট্রাল ফিল্ডের উত্তর দিকে এফ রহমান হলের পাশে রহস্যময় চবির সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম। বেশ সুসজ্জিত ও অপরূপ আর্কিটেকচারালে তৈরি হয় এ অডিটোরিয়াম।

কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছরও ব্যবহার করা যায়নি এই অডিটোরিয়ামটি। একেবারে পাহাড়ের কোল ঘেঁষেই অডিটোরিয়ামটি তৈরি এবং এর পাশে রয়েছে চবি নিরাপত্তা দপ্তর।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের বয়োবৃদ্ধ রিকশাচালক জমির হোসেনের সাথে গল্পচ্ছলে কথা হয়। তিনি জানালেন এ অডিটোরিয়াম সম্পর্কে অদ্ভুদ তথ্য। লোকমুখেও অনেক কথা শোনা যায় এই অডিটোরিয়াম সম্পর্কে।

তিনি বলেন, এই অডিটোরিয়ামে কোনো অনুষ্ঠান করা যায় না। আমরা যতটুকু শুনেছি এখানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে একদল সাপ এসে অনুষ্ঠান প- করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্বলিক এসিড ছিটিয়েও সাপের উপদ্রব থামাতে ব্যর্থ হয়।

আবার গভীর রাতে এখানে ঘটে ভৌতিক কা-। কখনো কোনো নারীকে দেখা যায় অডিটরিয়ামের ছাঁদে, ভেসে আসে গানের সুর। এমনও শোনা যায়, এ অডিটরিয়ামে কোনো অনুষ্ঠান করা হলে পরে কেউ না কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হতোই।

নির্মাণজনিত ত্রুটির কারণে অডিটোরিয়ামের ছাদ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে, যা মেরামত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় রহস্যজনক ভবনটি।

বর্তমানে ভবনটিতে তালা লাগানো। এর ভেতরে আর কেউ প্রবেশ করে না। এটি কীটপতঙ্গ ও পাখিদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এটি চবির ঐতিহ্যেরই অংশ। ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, চবির পরিত্যক্ত অডিটোরিয়াম একটি রহস্যময় বাড়ি। এটি সত্যি এক মজার বিষয়। এই অডিটোরিয়ামটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্য।

একুশে/ইএস/এসএইচ/এটি

একুশে/এসএইচ