চট্টগ্রাম: নগরীর খুলশী থানা এলাকা থেকে ১০ ‘ভবঘুরে’ যুবতীকে আটক করে আদালতে হাজির করেছে গোয়েন্দা পুলিশ; পরে এক হাজার টাকা অর্থদন্ড পরিশোধ করে মুক্তি পায় তারা। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে খুলশী থানাধীন টিভি সেন্টারের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহীদা আক্তার (১৮), পারভীন আক্তার (২০), নাসিমা আক্তার (২০), মুন্নী আক্তার (২০), পুতুল আক্তার (২৪), ফারজানা বেগম (২০), উর্মি আক্তার (১৮), জেসমিন আক্তার (১৯), সীমা আক্তার (২০), শারমীন আক্তার (১৮)।
এদের মধ্যে সীমা আক্তারকে ৬ মাসের অন্তস্বত্তা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হলেও এতে তার স্বামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। সীমার পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে- আবুল কালাম।
অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন- নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবদুল মোনাফ, এসআই ইলিয়াছ, এএসআই জালাল, আক্কাস, সাঈদ, কনস্টেবল সুলতানা ও পুস্পিতা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতার ১০ যুবতীকে সিএমপি অর্ডিন্যান্সের ৮৮ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে হাজির করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ৮৮ ধারায় অভিযুক্ত করার অর্থ হল- আসামি ভবঘুরে অবস্থায় ছিল। সন্দেহজনক ঘোরাঘুরিকালে আটকদেরকে সাধারণত এই ধারায় আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এদিকে আদালতে হাজিরের পর ১০ যুবতীর প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর হাকিম নূরুল আলম মোহাম্মদ নীপু।
অভিযোগ উঠেছে, পতিতাবৃত্তির অভিযোগে খুলশী থানা এলাকা থেকে ওই ১০ যুবতীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী এই অপরাধের দায়ে ৭৬ ধারায় আদালতে চালান দিলে অভিযুক্তদের কিছুদিনের কারাদন্ড হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা না করে ৮৮ ধারায় অভিযুক্ত করায় অর্থদন্ড পেয়ে ছাড়া পেয়ে গেছেন গ্রেফতারকৃতরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘এই মামলা তো ৮৮ ধারায় হওয়ার কথা না। কোন ভুল করলো কিনা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
