চবি প্রতিনিধিঃ কোটা প্রথা সংষ্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গৃহিত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কোটা বাতিলের সুপারিশের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিবন্ধী ছাত্রসমসাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিচাস) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় সংগঠনটির সভাপতি আলহাজ্ব উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ সংগঠনটির সদস্যবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী অর্থাৎ ৯ম গ্রেড থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকুরিতে সকল ধরণের কোটা বাতিলের সুপারিশে আমরা তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কোটা পর্যালোচনা কমিটির এ সুপারিশ মোটেও গ্রহণযোগ্য আর বাস্তবসম্মত নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধীদের কোটার প্রয়োজন আছে কিনা তা মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুল ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ভালো করেই জানেন।
কতিপয় ব্যাক্তিবর্গের ভিত্তিহীন বক্তব্যর জের ধরে প্রতিবন্ধীদের কোটা বাতিল মোটেও যৌক্তিক নয়। যেখানে ভারতের সংবিধানে প্রতিবন্ধীদের জন্য তিন শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশ কোটার ব্যাবস্হা করছে সেখানে বাংলাদেশ কেন প্রতিবন্ধীদের এই সুবিধা কেড়ে নিবে।
বিশ্বের সব দেশে কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার ব্যাবস্হা রেখেছে সরকার। প্রতিবন্ধী সমাজের উন্নয়ন ও দেশকে বোঝামুক্ত করতে প্রতিবন্ধীদের কোটা প্রথা মোটেও অযৌক্তিক নয় বরং এটি দেশের জন্য মঙ্গল।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা কোটা বাতিলের সুপারিশ মানি না। আমাদের দাবি প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটার ব্যাবস্হা করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সরকারকে আরও সচেষ্ট হতে হবে। প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর অতি শিঘ্রই প্রতিবন্ধীদের চাকুরির ব্যাবস্থা করতে হবে এবং যতদিন চাকুরি হবে না ততদিন তাদের ভাতার ব্যাবস্থা করতে হবে।
এসময় সংগঠনটির সভাপতি আলহাজ্ব উদ্দীন বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি আমরা এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে কোন বক্তব্য না পাই তাহলে আমরা আগামী রবিবার চট্টগ্রাম নগরীর প্রেসক্লাবের সম্মুখে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করবো। আমরা আশা রাখছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করবেন এবং আমাদের কোন আন্দোলনের সম্মুখীন হতে হবে না।
