গরলা খাল ভরাট, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ সাতকানিয়ায়

14017903_1572800629693162_313939887_nনজিব চৌধুরী: দখল-ভরাটে মৃতপ্রায় সাতকানিয়ার গরলা খাল। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে পাঁচটি ইউনিয়ন। এতে দুই হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ, পোষা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহানী ও কেঁওচিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে পাঁচটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের কৃষকরা দুই হাজার একর জমিতে সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারছে না। প্রথম দফায় রোপণ করলেও পাহাড়ি ঢল নেমে ভেসে যায় একটু গা-ধরা চারাগাছগুলো। একারণে খেটে খাওয়া কৃষকরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রতি বছর আমন মৌসুমে তাদের জমিগুলো অনাবাদী থেকে যায়।

এদিকে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের, তেমুহানী ও কেঁওচিয়া গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, খালটির দুই অংশেই বাঁধ দেওয়ার কারণে বৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। খালটির এক পাশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হতো, অন্যপাশে একটি ইটের ভাটার মালিক আগে বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর সড়ক উপড়ে ফেলে ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ভরাট খালের খননকাজ শুরু হলেও জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। যার কারণে ঈদের দিনেও তেমুহানী ও কেঁওচিয়া গ্রামের বাসিন্দাসহ ঈদ আনন্দ মেলেনি পাঁচ ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের। গরলা খাল এখনো ভরাট খালই থেকে গেছে। এখনো জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারছে না। একারণেই তাদের জমিগুলো অনাবাদী থেকে যাচ্ছে।

14018039_1572800639693161_1081061762_nতেমুহানী গ্রামের কৃষক ওসমান গণি, কেঁওচিয়া গ্রামের আকতার হোসেনসহ এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গরলা খালটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল। এ খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পাঁচটি ইউনিয়নের এবং পার্বত্য জেলার বান্দরবনের কিছু এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়। তাছাড়া হাঙ্গর খাল, ছক্কা কোদালা ও রামদা খালের পানি নিষ্কাশেনের একমাত্র খাল এটি। এ খালটি তেমুহানী গ্রাম দিয়ে নয়া খাল নাম ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ভেদ করে পশ্চিমমুখী হয়ে দুটি শাখা বের হয়েছে। একটি শাখা কেঁওচিয়া, নোলুয়া ও আমিলাইশ হয়ে মিলেছে ডলু খালের সাথে। অন্য শাখাটি নলুয়া, খাগরিয়া ইউনিয়ন হয়ে মিলেছে সাঙ্গু নদীর সাথে। এ শাখাটি এ বছর চট্টগ্রাম ১৪ সংসদীয় আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দখলদারিত্ব তুলে দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভরাট খালটির আশি শতাংশ খননকাজ শেষ করলেও খালটির আমিলাইশ শাখা দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। যার ফলে এখনো জলাবদ্ধতা থেকে গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বন্যা ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারায় বিপুল পরিমাণ আবাদী জমি অনাবাদী থেকে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পর খালের একটি শাখায় খননকাজ শুরু হওয়ায় উত্তর সাতকানিয়ার কৃষকদের মাঝে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।