ইউএস বাংলা ফ্লাইটে ক্রুটি, রক্ষা পেলেন ১৭১ যাত্রী

চট্টগ্রাম : ঢাকা থেকে কক্সবাজারের পথে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ সামনের চাকা ছাড়াই চট্টগ্রামে জরুরী অবতরণ করেছে। পাইলটের দক্ষতায় প্রাণে বেঁচে গেছেন যান্ত্রিক গোলযোগে পড়া উড়োজাহাজটির ১৭১ জন আরোহী। বুধবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নিরাপদে অবতরণ করে।

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ১৪১ ছেড়ে যায়। এটি কক্সবাজারে নামার কথা ছিল বেলা সাড়ে ১২টায়। কিন্তু নোজ হুইল আটকে যাওয়ায় পাইলট কক্সবাজারের আকাশে কয়েকবার চক্কর কেটে সেখানে না নামার সিদ্ধান্ত নেন। পরে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামে চলে আসে এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবতরণের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়। বেলা ১টা ২০ মিনিটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি শাহ আমানতের রানওয়েতে সামনের চাকা ছাড়াই জরুরি অবতরণ করে।

এ অবস্থায় বিমানের যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পাইলট এ পরিস্থিতিতেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

চট্টগ্রাম বিমান বন্দর ম্যানেজার সরোয়ার ই জাহান একুশে পত্রিকাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘পাইলটের দক্ষতার কারণে ত্রুটি সত্ত্বেও বিমানটি নিরাপদে ল্যান্ড করা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত। একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো বিমানটি। বর্তমানে সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। এ মুহূর্তে আরও কিছু জরুরি কিছু আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো। বলেন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার।

জাহিদ নামের বিমানবন্দরের এক কর্মী বলেন, হঠাৎ একটা বিমান নামার সময় সামনের চাকা না খুলেই অবতরণ করে বলে শুনতে পাই। পরে জানতে পারি ইউএস বাংলার ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে এসেছে।

এ ব্যাপারে ইউএস বাংলার কর্মকর্তা নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এধরনের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা অফিসে ফোন করা হলে তারা বলেন, এধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ঐ বিমানের যাত্রী সোহাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন- ইউএসবাংলা প্লেন একটা ভয়াবহ প্লেন। কেন এ ধরনের বিমান কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়! এ যাত্রায় আল্লাহ এবং ক্যাপ্টেনের সহযোগিতায় বেঁচে গেলাম।

ছবি : আকমাল হোসেন

একুশে/এটি