চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কলেজ ফের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসময় তাদের ছোঁড়া ইট-পাটকেলে তিন শিক্ষার্থী ও এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে থেমে থেমে তা দুপুর ১টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন-মো.কুতুব উদ্দিন (২২), মো. শিহাব (২২)ও মো. জমির উদ্দিন (২২)। আহত পুলিশ সদস্য হলেন-মো. রেজাউল (২৭)।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিহাব ও জমির আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুতুব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) ক্যাজুয়েলিটি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে আহত পুলিশ সদস্যকে কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা জানা যায়নি।
জানা গেছে, ভর্তি কার্যক্রমের তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় একপক্ষ আরেক পক্ষকে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এতে পুলিশসহ শিক্ষার্থীরা আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে প্রচুর পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে নতুন কমিটি নিয়ে তাদের দুইপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।
ভর্তির ফরম নিতে আসা শিক্ষার্থী কুতুব উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভর্তি ফরম নিতে সকালে তিন বন্ধু চট্টগ্রাম কলেজে আসি। কলেজে কতগুলো ছেলে এসে আমাদের থেকে একশ’ টাকা করে জমা নেয়। টাকাটা কিসের জানতে চাইলে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করে। এরপর হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষকারীদের ছোঁড়া পাটকেলে আমরা আহত হই।
কুতব উদ্দিন বলেন, আমার বোর্ড সার্টিফিকেটের ফাইল হারিয়ে ফেলেছি। কীভাবে সার্টিফিকেটগুলো সংগ্রহ করব বুঝতে পারছি না। তাছাড়া মুখে মারের আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বাসায় গিয়ে কী বলব। আমরা তো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।
এ বিষয়ে সিএমপির উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারি দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ কাম্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অাইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।
একুশে/এটি/এসসি
ছবি : আকমাল হোসেন
