আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ট্রাম্পের নজর উপেক্ষা করে রাতেই দিল্লি পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন ৭ লোককল্যাণ মার্গে গিয়ে বৈঠক করেন পুতিন। তার পরে সেখানেই নৈশভোজের টেবিলে একান্তে কথাবার্তা হয় দু’জনের। আর রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা-সহ ২০টি বিষয়ে চুক্তি করতে চলেছে ভারত।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি। পুতিনের দেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির এই ধরনের সামরিক চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। কারণ, ভারত দীর্ঘদিন থেকে দৌত্য চালালেও এ ব্যাপারে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা থেকে নয়াদিল্লিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তা সত্ত্বেও মার্কিন হুমকিকে অগ্রাহ্য করে এগিয়েছে ভারত।
নয়াদিল্লির কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেশ কয়েকটি কারণে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছে।
এক. চীন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় এই ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাতে থাকা জরুরি। সম্প্রতি চীনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ কিনেছে।
দুই. ভারত বেশ কিছু সময় ধরেই আমেরিকার দিকে ঝোঁকায় কাছাকাছি এসেছে রাশিয়া-চীন-পাকিস্তান। ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোয় সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে নৌবাহিনী সমঝোতা চুক্তি করে বসেছে ইসলামাবাদ। এখন সেই সমীকরণ ভেঙে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বহু পুরনো সম্পর্ককে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। গত কয়েক বছরে পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাড়িয়ে গিয়েছেন মোদী। এ বছরে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে ভারতের পূর্ণ সদস্য হওয়ার পিছনেও সহযোগিতা ছিল রাশিয়ার। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিকেও সমর্থন করছে তারা। আর বেজিং যতই আটকাক, এনএসজিতে প্রবেশের প্রশ্নেও একই ভাবে নয়াদিল্লির পাশে রয়েছে পুতিনের দেশ।
তিন. চীনকে আটকাতে নয়াদিল্লিকে পাশে চায় আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়া, ইরানের মতো ভারতের বন্ধু দেশগুলি থেকে সামরিক ব্যবস্থা কিংবা তেল কিনলে আটকাচ্ছে তারা। এই চাপের কাছে মাথা না নুইয়ে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে নয়াদিল্লি। এই প্রেক্ষাপটেই আগামিকাল ৫০০ কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে চুক্তি হতে চলেছে। রাশিয়ার থেকে ক্রিভাক-ক্লাস ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ এবং কেএ-২২৬ হেলিকপ্টার কেনা নিয়েও কথা হবে। ভারতে কুড়ানকুলামের পরে রাশিয়ার সহযোগিতায় দ্বিতীয় পরমাণু চুল্লি বসানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। ২০২২-এ ভারতের মহাকাশ অভিযানেও সাহায্য করবে মস্কো। কথা হবে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রশ্নেও।
আগামী বছরে ভারত-মার্কিন যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার কথা গত মাসেই ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে জরুরি সামরিক তথ্য আদানপ্রদানেও রাজি হয়েছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে পুতিনের দিল্লি সফরে বিশেষ নজর রেখে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
একুশে/এসসি
