রাজধানীর গুলশানের অভিজাত রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মূল হোতা মারজানের পরিচয় মিলেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি পর্যন্ত মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ভর্তি হন। পড়াশুনা করার সময়ই তিনি বিয়ে করেন। গত আট মাস ধরে স্ত্রীসহ সে নিখোঁজ হলেও চট্টগ্রাম পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় তার নাম নেই।
পাবনার সদর থানার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে তার বাড়ি। তার পারিবারিক নাম নুরুল ইসলাম মারজান।তবে সাংগঠনিকভাবে সে মারজান হিসাবেই পরিচিত। তাঁর বাবার নাম নিজামউদ্দিন।
তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো কিছু না বললেও মারজানের পিতা নিজামউদ্দিন বলেছেন, ‘গণমাধ্যমে যে ছবি ছাপা হয়েছে সেটা আমার ছেলেরই ছবি। তিনি বলেন, আট মাস আগে স্ত্রীসহ সে আমাদের বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে। মারজান কোথায় গেছে কি করছে সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হওয়ার কথা নিজামউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আহসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মারজানের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনিও পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা মারজানের পরিচয় জানতে আরও খোঁজখবর নিচ্ছি।’সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘গোয়েন্দাদের জালে মারজান’।
সম্প্রতি পুলিশ গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসাবে মারজানের খোঁজ পায়। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার জন্য বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানের হামলা ও শোলাকিয়ার পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াকে মূল হোতা হিসাবে বলা হলেও সর্বশেষ তৃতীয় মাস্টারমাইন্ড হিসাবে মারজানের নাম আসে।
গত শুক্রবার পুলিশের তথ্য পাওয়ার বিশেষ অ্যাপ ‘হ্যালো সিটি’তে অপেক্ষাকৃত তরুণ মারজানের ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁকে গুলশান হামলার ‘অপারেশন কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারজান পাবনার স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে পাস করে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন। এর মধ্যেই তিনি বিয়ে করেছেন। আট মাস আগে স্ত্রীসহ নিখোঁজ হন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার সঙ্গে জড়িত এবং হামলাকারী জঙ্গিদের সঙ্গে মারজানের যোগাযোগ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। হলি আর্টিজানে হামলার পর রাত একটায় ইন্টারনেট-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত ভেতর থেকে জঙ্গিরা হত্যাযজ্ঞের ছবি তুলে তা মারজানসহ কয়েকজনকে পাঠিয়েছিল। ওই রাতে এসব ছবি আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক-এ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যাতে মনে হয়েছে, মারজান গুলশান হামলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
মারজান সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মুহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, মারজানের পরিচয় সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পেরেছি। তার সম্পর্কে আরও জানার জন্য আমরা কাজ করছি।
