চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেন ২শ’ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। সফরসঙ্গীর এই দীর্ঘ তালিকায় ছিলেন চট্টগ্রাম ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চু।
এই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েই নগরে সাড়া ফেললেন এই ছাত্রলীগ নেতা। চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখেই পেয়েছেন রাজকীয় সংবর্ধনা।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অনুসারী, সতীর্থদের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এই সংবর্ধনার। এতে উপস্থিত ছিলেন অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। ৪শ’ হাইচ-মাইক্রো, ৫শ’ মোটরসাইকেল এবং ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাকে করে বিমানবন্দরে জড়ো হন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাচ্চুর এই রাজকীয় সংবর্ধনা ও ভিডিও’র ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুদিন ধরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আলোচনার ঝড়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘এটা ছিল চট্টগ্রামে নিকট অতীতে সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা এবং শোডাউন। চট্টগ্রামের কোনো সন্তান মন্ত্রী হওয়ার পরও চট্টগ্রামে এসে এমন সংবর্ধনা পাননি। সে তুলনায় আরশেদুল আলম বাচ্চুর সংবর্ধনাটি ছিল ব্যতিক্রম ও চোখে পড়ার মত। মন্ত্রী-এমপি নয়, স্রেফ প্রধানমন্ত্রীর সফর তালিকায় যুক্ত হয়েই বাজিমাত করলেন তিনি। পেলেন রাজকীয় সংবর্ধনা।’
জানা যায়, রোববার (৭ আগস্ট) সকালে আমেরিকা থেকে ফিরে ঢাকা হয়ে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন আরশেদুল আলম বাচ্চু।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আরশেদুল আলম বাচ্চু বিমান থেকে নামার পর বিমানবন্দরের পরিচিত একজন স্টাফ তাকে পা ছুঁয়ে সালাম করার চেষ্টা করে তার হাতব্যাগটি এগিয়ে নেন। এসময় আরও জনা পাঁচেক স্টাফ বাচ্চুর দিকে এগিয়ে যান। তারা বাচ্চুকে স্বাগত জানিয়ে ধীরে ধীরে নিয়ে যান ভিআইপি লাউঞ্জের দিকে।
ভিআইপি লাউঞ্জের প্রবেশমুখে বিমানবন্দর অভ্যন্তরে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগ নেতা। তাদের কাছাকাছি যেতেই এগিয়ে আসেন সুঠাম, পরিপাটি দেহের এক লোক। তিনি বাচ্চুর সঙ্গে হাত মেলানোর পর আসেন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার সারোয়ার ই জাহান। এয়ারপোর্ট ম্যানেজার বাচ্চুকে স্বাগত জানিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জের দিকে যেতে ইশারা করেন।
এরপর নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে বাচ্চুকে স্বাগত জানান। তারা সেখানে ফটোসেশনে অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সামদানী জনি, সাবেক উপ পাঠচক্র সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক প্রমুখ।
এরপর বাইরে ভিআইপি লাউঞ্জের গেইটে আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন আরশেদুল আলম বাচ্চু। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বাচ্চু বলেন, ‘আমি এই সংবর্ধনা চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামি নির্বাচনে বিজয়ী করতে পারলেই আমি সংবর্ধনা নেব।’
সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে অবস্থানের পর গাড়ির বহর নিয়ে খোলা জিপে চড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন বাচ্চু। পথে পথে, রাস্তায় দাঁড়িয়েও অনেকে বাচ্চুকে অভিবাদন জানান। হাত উচিয়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন বাচ্চু। এরপর জিইসি হয়ে বাচ্চু নিজের বাড়িতে পৌঁছেন সন্ধ্যা ৬টার দিকে।
সূত্র মতে, ট্রাফিক পুলিশকে আগে থেকে বলে রাখায় তারা রাস্তা ক্লিয়ার রাখার চেষ্টা করে। ফলে বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে নগর প্রদক্ষিণের ফলে যে মাত্রায় যানজট হবার কথা ছিল তা হয়নি। তবে আগ্রাবাদের পর কিছুটা জ্যাম পরিলক্ষিত হয়।
সংবর্ধনার বিষয়ে জানতে চাইলে আরশেদুল আলম বাচ্চু একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি জানতাম না তারা আমাকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দিতে অপেক্ষা করছে। বের হয়ে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। আমার কর্মীরা আমাকে তাদের মনে জায়গা দিয়েছে সেটাই আমার অনুপ্রেরণা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে পেরে আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমার জীবনের সেরা অর্জন হয়ে থাকবে এই সফর। বলেন আরশেদুল আলম বাচ্চু।
