চট্টগ্রাম : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে মিথ্যা, সাজানো, ফরমায়েশী রায় উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেগম রোজী কবির, গোলাম আকবর খোন্দকার, এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান।
বুধবার (১০ আগস্ট) এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ফরমায়েশী। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে
সম্পূর্ণ উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায় দিয়েছে। এই রায়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এই রায় ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই সরকারের নির্দেশনায় এই রায় সাজানো হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমূহূর্তে ৫ দফা দাবিতে ঐক্যপ্রক্রিয়ার আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সরকারের সময় এ মামলার চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম ছিল না। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের অনুগত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৮ সালে চার্জশিট দাখিল করার আগে মুফতি হান্নান যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল সেখানে তারেক রহমানের নাম বলেননি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমানকে এই মামলায় ফাঁসানোর জন্য নীলনকশা শুরু করে। মুফতি হান্নানকে ২য় দফায় দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করে তথাকথিত ২য় স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬৪ ধারায় দ্বিতীয়বার জবানবন্দি নেওয়ার ঘটনা বিরল। সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি নগ্ন উদাহরণ সৃষ্টি করলো। এ মামলায় ২২৫ জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। একজন স্বাক্ষীও বলেননি তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত। মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নির্যাতন করার পরও বলেছে কখনো তার সাথে তারেক রহমানের দেখা হয়নি। তাই বিএনপি এবং দেশবাসী এই সাজানো, ফরমায়েশী রায়কে মেনে নিবে না। বিএনপি এই রায়কে আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।
নেতৃবৃন্দ এই রায়কে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশী করে গণগ্রেফতার ও গায়েবী মামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই রায়ের প্রতিবাদে ১১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায়
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি
