সমরের মামলা পিবিআই তদন্ত করবে কিনা, জানা যাবে কাল

চট্টগ্রাম: শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমর কৃঞ্চ চৌধুরীকে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছিল বোয়ালখালী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে; এ প্রেক্ষিতে সমরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদকের মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিতে গত ৩০ মে আদেশ দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. হেলাল উদ্দিন। তবে আদালতের এই আদেশ নিয়ে আপত্তি তুলে বোয়ালখালী থানা পুলিশ।

উক্ত আদেশটির বিরুদ্ধে গত ২৮ জুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করেছিলেন এসআই মো. আতিক উল্লাহ। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য্য রেখেছেন বিচারক।

এ বিষয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমর চৌধুরী বলেন, বোয়ালখালী থানা পুলিশ অামাকে ফাঁসিয়েছে। তারা যেহেতু অভিযুক্ত, এখন তারাই যদি তদন্ত করে, তাহলে তো প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে না। পিবিআই তদন্ত করলে সেটা নিরপেক্ষ হবে বলে আমি মনে করি। এখন পিবিআই তদন্ত ঠেকাতে থানা পুলিশ রিভিশন দায়ের করেছে। এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত সমর চৌধুরী চট্টগ্রাম শহরে থাকলেও তার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে। ওই গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী সঞ্জয় দাশের সঙ্গে তার কাকা স্বপন দাশের জমি নিয়ে বিরোধ আছে। স্বপন দাশকে আইনগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন সমর চৌধুরী। ওই ঘটনার জের ধরে ‘সঞ্জয় দাশের প্ররোচনায়’ সমরকে গত ২৭ মে আদালত ভবনের নিচ থেকে বোয়ালখালী থানার এসআই আরিফুর রহমান ও এসআই আতিক উল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে।

পরদিন আদালতে নেওয়ার আগে হাজত থেকে বের করে একটি টেবিলে কিছু লাল রঙের ট্যাবলেট সাজিয়ে রেখে ছবি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন সমর চৌধুরী। এরপর তাকে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলার আসামি করা হয়। সমর চৌধুরীকে আটক করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় তখন।

গত ১২ জুন জামিনে মুক্তি পান সমর চৌধুরী। তখন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বোয়ালখালী থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ওসি হিমাংশু দাশ রানার নির্দেশে তাকে ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।