পণ্য পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার

Yabaচট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলী এলাকার ‘নিউ আল আমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী’ তে অভিযান চালিয়ে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ‘নিউ শিমুল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী’ তে অভিযান চালিয়ে আরো ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এ অভিযান পরিচালনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-৭।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়ার শিকলবাহা গ্রামের মৃত আমিনুল হকের ছেলে আহাম্মদ নুর (৪৮) ও বাকলিয়া থানার লামার বাজার এলাকার মৃত ফজল আহাম্মদের ছেলে মোঃ রাসেল (২৯)।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-৭ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে জানানো হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কৌশল ও অভিনব উপায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব জানতে পারে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীতে পণ্য পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কদমতলী এলাকার ‘নিউ আল আমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী’তে অভিযান চালিয়ে ১৬ টি এনার্জি বাল্বের কার্টুন জব্দ করা হয়। পরে এসব কার্টুন তল্লাশি করে দুটি কার্টুনের ৩৫টি প্যাকেটে (প্রতি প্যাকেটে ২ হাজার করে) মোট ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উক্ত এনার্জি বাল্বের কার্টুনের চালান নং-৭২৫২ এ প্রাপক (রমেশ সরকার ইলেকট্রনিক্স, নিউ এলিফেন্ট রোড, ঢাকা) ও প্রেরকের (জসিম ইলেকট্রিক হাউজ, ৭৪, আছাদগঞ্জ, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম) ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার যাচাই করে র‌্যাবের আভিযানিক দল আরও জানতে পারে, ‘নিউ শিমুল ট্রান্সপোর্ট’ ব্যবহার করে ইয়াবার আরেকটি বড় চালান একই উপায়ে এনার্জি বাল্বের কার্টুনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে কদমতলী এলাকার ‘নিউ শিমুল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী’ এ অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে ১২টি এনার্জি বাল্বের কার্টুন তল্লাশি করে দুটি কার্টুনের ১০টি প্যাকেটে (প্রতি প্যাকেটে ২ হাজার করে) মোট ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) চন্দন দেবনাথ বলেন, গ্রেফতারকৃত দুইজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। গ্রেফতার আহাম্মদ নুরের ইয়াবা ব্যবসার পার্টনার হলেন পটিয়ার ১৩ নং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম। সেলিম ও নুরকে ইয়াবা সরবরাহ করে আনোয়ারার গহিরার বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর। বোটে করে ইয়াবাগুলো টেকনাফ থেকে নিয়ে আসে জাহাঙ্গীর। ঢাকায় এই ইয়াবার চালান গ্রহন করে মোঃ আইলেন হোসেন ও মোঃ বেলাল হোসেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা চন্দন দেবনাথ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ‘জসিম ইলেকট্রিক হাউজ’, ‘রমেশ সরকার ইলেকট্রনিক্স’, ‘সাগর লাইটিং হাউস’ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নামে এনার্জি বাল্বের কার্টুনের ছদ্মবেশে ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঠিকানা যাচাই করে দেখা যায়, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানাই ভূয়া। ‘এস এ পরিবহন’, ‘সোনালী ব্যাংক’, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক’ ও ‘ব্রাক ব্যাংক’ এর মাধ্যমে মূলত তারা ইয়াবা কেনা বেচার টাকা লেনদেন করে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা আরও জানিয়েছে যে, জুলাই ও আগস্ট মাসে ‘জসিম ইলেকট্রিক হাউজ’ এর নামে চার বার করে মোট ৮ বার ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।