
রাকীব হামিদ, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকেঃ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৪৬ এই থামল সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের রানের চাকা। ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশকে। সফরকারী দলটি বড় স্কোরের আশা করলেও ২৫০ রানের কাছাকাছি পুঁজি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচে দলীয় সর্বোচ্চ রান করেন ব্রান্ডেন টেইলর। ৭৩ বলে ৭২ রান করে দলের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানও তিনি।
বর্তমানে ২৪৭ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। মাঠে আছেন ওপেনার লিটন দাস ও গত ম্যাচে ১৪৪ করা ইমরুল কায়েস। কোন উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুই ওভারে ১১ রান।
বুধবার দুপুরে আড়াইটায় শুরু হয় বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ানডে ম্যাচ। এর আগে টসে জিতে জিম্বাবুয়ে কে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস ভাগ্যে জেতা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তিন পেসার ও দুই স্পিনারে ভরসা করেই ফিল্ডিংয়ে নামেন।
জিম্বাবুয়ে দলের যখন চার ওভারে ১৮ রান।তখনই সফরকারীদের দলে আঘাত হানেন বাংলাদেশের সাইফ উদ্দিন। জাদুকরী বলে ঘায়েল করেন জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে। উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকের কাছে ক্যাচ আউট হন তিনি।
এরপর মাঠে নামেন ব্রান্ডেন টেইলর। বাঁহাতি ওপেনার জোহাইয়োর সাথে দলের রানের চাকা ৭০ এ টেনে নিয়ে যান। দলের যখন এই অবস্থা, ১২ ওভারের সময় তখন জিম্বাবুয়ে শিবিরে আরেকটি উইকেটের পতন।এবার মাঠ ছাড়তে হয় শুরুতে নামা জোহাইয়োকে।বাংলাদেশ দলের স্পিনার মিরাজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে থাকা ফজলে রাব্বীর তালুবন্দী হন তিনি।
প্রথমে ওপেনার জোহাইয়ো এবং পরে উইলিয়ামস কে সঙ্গী করে টেনে নিচ্ছিলেন দলের ইনিংস। দলের শতকের পর নিজেও করলেন অর্ধ শতক। বড় সংগ্রহের দিকে পা বাড়ানোর আগেই ৭৫ রানেই জিম্বাবুয়ে দলের এই তারকা ব্যাটসমানকে থামান বাংলাদেশী স্পিনার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এলবিডব্লিউতে কুপোকাত করেন টেইলরকে।
শন উইলিয়ামস আর সিকান্দার রাজা মিলে ৪১ রানের জুটি গড়ে আবারও বাংলাদেশের সামনে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।হাফ সেঞ্চুরির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শন উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন উইলিয়ামস। তার আগে ৭৬ বলে খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস।
৪৬ তম ওভারে সিকান্দার রাজাকে ফেরান টাইগার দলপতি মাশরাফি। হাফ সেঞ্চুরি করার ১ রান বাকী থাকতেই ৬১ বলে ৪৯ রান নিয়ে আউট হন রাজা। দলের সংগ্রহ তখন ২২৯।
এরপরে ওভারে আবার জিম্বাবুয়ের উইকেটের পতন। মোস্তাফিজের বলে ১৭ রান করে মাঠ ছাড়েন পিটার মুর। চার হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে মিরাজের ক্যাচে ধরাশায়ী হন এই ব্যাটসম্যান। উইকেট হারানর এই ধারাবাহিকতা পরের ওভারের চলমান থাকে। সাইফের বলে বাউন্ডারি লাইনে নাজমুল ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এলটন চিগাম্বুরা। ৯ বল খেলে ৩ রান করেন তিনি। শেষে মাবুটা আর ট্রিপিয়ানো মিলে অপরাজিত থেকে দলের জন্য করেন ১২ রান।
স্বাগতিক বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট পান সাইফ উদ্দিন। ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এরপরে যথাক্রমে মিরাজ, মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজ ও মাশরাফি একটি করে উইকেট পান।
একুশে/আরএইচ
ছবি : আকমাল হোসাইন
